এক দিনে টিকা নিল ১ লাখের বেশি মানুষ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১; সময়: ৯:৫৮ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সারাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা প্রয়োগ শুরুর তৃতীয় দিনে সারাদেশে ১ লাখ ১ হাজার ৮২ জন টিকা নিয়েছেন। এ নিয়ে গত তিন দিনে সারাদেশে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৮ জন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা নিলেন। রোববার সারা দেশে গণ টিকাদান ‍শুরুর পর প্রথম দুদিনে টিকা নিয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৬৬৯ জন মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেলে ইনফরমেশন সার্ভিসেস (এমআইএস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মঙ্গলবার যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের মধ্যে ২০৭ জনের ‘সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ দেখা দিয়েছে। আগের দিন সোমবার টিকা নেওয়া ৪৬ হাজার ৫০৯ জনের মধ্যে ৯২ জনের এ ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।

আর প্রথম দিন টিকা নিয়েছিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন নাগরিক; তাদের মধ্যে ২১ জনের ‘সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া’ দেখা যাওয়া ছাড়া বড় কোনো সমস্য হয়নি। এখন প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সারা দেশে এক হাজারের বেশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

টিকা নিতে আগ্রহী সবাইকে সরকারের সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে (www.surokkha.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করে নিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান।

শুরুতে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং সম্মুখসারিতে থাকা বিভিন্ন পেশাভিত্তিক শ্রেণি অথবা বিশেষ শ্রেণির নাগরিকরাই টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছিলেন। এখন যাদের বয়স অন্তত চল্লিশ বছর হয়েছে, তারাও নিবন্ধন করতে পারছেন।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের ৪৭টি হাসপাতালে ১২ হাজার ৫১৭ জন টিকা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪৯৪ জন টিকা নিয়েছেন।বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ২২০ জন টিকা নিয়েছেন ঢাকা বিভাগে।

এছাড়া ময়মনসিংহে ৪ হাজার ৮৫৫ জন, চট্টগ্রামে ২৩ হাজার ৫৪৪ জন, রাজশাহীতে ১৩ হাজার ১১৪ জন, রংপুরে ১০ হাজার ২৩৭ জন, খুলনায় ১১ হাজার ৩৭২ জন, বরিশালে ৪ হাজার ১৮১ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮ হাজার ৫৫৯ জন টিকা নিয়েছেন।

বাংলাদেশে দেওয়া হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা। সবাইকে এ টিকার দুটি ডোজ নিতে হবে। এই টিকা নিরাপদ এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।

ঢাকায় ২০৪টি এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ১৯৬টি স্বাস্থ্যকর্মীদের দল এসব কেন্দ্রে সরাসরি টিকাদানে নিয়োজিত রয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে মোট ৭ হাজার ৩৪৪টি দল প্রস্তুত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি দল দৈনিক ১৫০ জনকে টিকা দিতে পারবে। সে হিসেবে দৈনিক তিন লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের। জাতীয়ভাবে কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন ভাগে (ফেইজ) মোট পাঁচ ধাপে এসব টিকা দেওয়া হবে। কোভিড-১৯ মহামারী প্রতিরোধে সামনের কাতারে থাকা মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

  • 43
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে