স্নায়বিক সমস্যায় ভোগাদের কোভিডে মৃত্যুঝুঁকি দ্বিগুণ বেশি: গবেষণা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২০; সময়: ৮:৪০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের পরিচালক শক্তি হচ্ছে মস্তিষ্কের নিউরন কোষ। চারপাশের পরিবেশে থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পাঠানো তাপমাত্রার তারতম্য, গন্ধ বা স্বাদের অনুভূতি বিশ্লেষণ করে সেই অনুসারে অনুভূতির সংকেত পাঠায় মোটর নিউরন। অর্থাৎ, স্নায়বিক কেন্দ্রের প্রধান নিয়ন্ত্রক সে।

মগজের অত্যন্ত শক্তিশালী এই অংশটি যাদের ঠিক মতো কাজ করে না, তারা এমনিতেই বেশ অসহায়। তার উপর নতুন বিপদের কথা বলছে বিজ্ঞান। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো গুরুতর অসুস্থ কোভিড রোগী যদি নিউরোলজিক্যাল/স্নায়বিক সমস্যার কারণে স্ট্রোক ও বিভ্রান্তির শিকার হন হয়, সেক্ষেত্রে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকখানি বেড়ে যায়।

আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজির নিজস্ব সাময়িকী- জার্নাল নিউরোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে একথা জানানো হয়। গবেষণায় ৪,৭১১ জন কোভিড রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গত ১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল এই ছয় সপ্তাহ রোগীরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের মন্তেফিওরে মেডিক্যাল সেন্টার নামক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়াদের মধ্যে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের বিজ্ঞানীরাও ছিলেন। তাদের মতে, আলোচিত ৪,৭১১ জন রোগীর মধ্যে ৫৮১ জন এত গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় ভুগছিলেন যে, তাদের সম্পূর্ণ মগজের চিত্রধারণ করার প্রয়োজন হয়।

এসব ব্যক্তির সঙ্গে কোভিড আক্রান্ত কিন্তু স্নায়বিক সমস্যামুক্ত অন্য রোগী ১,৭৪৩ রোগীর তুলনা করেন গবেষকরা। সমান বয়স এবং একই রকম সংক্রমণ তীব্রতা অনুসারে উভয় দলের নানা ব্যক্তিকে তুলনামূলক পর্যবেক্ষেণে রাখা হয়।

অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের বিজ্ঞানী এবং গবেষণা নিবন্ধের সহ-লেখক ডেভিড আলটেশ্চোল জানান, ‘ফুসফুস থেকে হ্রদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনের তীব্র সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও যারা স্নায়বিক সমস্যার কারণে বিভ্রান্তির শিকার হন বা যাদের চিন্তাশক্তি সঠিক পথে কাজ করতে পারে না- তারাসহ স্ট্রোকের শিকার রোগীদের প্রাণহানির মারাত্মক শঙ্কা থাকে। এই প্রথমবারের মতো তা আমাদের গবেষণা সূত্রে জানানো হয়েছে।’

আলটেশ্চোল বলেন, ‘এখন থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই গবেষণার ফল থেকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্নায়বিক রোগীদের প্রতি বাড়তি যত্নশীল হওয়ার ব্যাপারে জানতে পারবেন। আশা করি, এতে অনেকের প্রাণ বেঁচে যাবে।’

গবেষক দলের বিশ্বাস, তাদের গবেষণালদ্ধ তথ্য থেকে সম্ভাব্য স্নায়বিক সমস্যায় ভোগা কোভিড রোগীদের আলাদা করে শনাক্ত করতেও বাড়তি সাহায্য পাবেন চিকিৎসা কর্মীরা। সেই অনুসারে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকাদের উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে, বলে তারা আশা করছেন। ফলে মৃত্যুহার কমে আসবে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৫৫ জন কোভিড রোগী আগেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন, আর ২৫৮ জনের মধ্যে বিভ্রান্তি বা যুক্তিসঙ্গত চিন্তার অভাব দেখা দেয়। বিজ্ঞানীরা জানান, এদের মধ্যে আবার স্ট্রোক আক্রান্ত কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যুহার ছিল অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যামুক্তদের তুলনায় দ্বিগুণ বা ৪৯ শতাংশ। তাদের সঙ্গে তুলনা করা নমুনা জনসংখ্যার স্নায়বিক সমস্যাহীনদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ২৪ শতাংশ।

বিভ্রান্তিতে ভোগাদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর এই সমস্যামুক্ত নমুনা জনসংখ্যায় সেই হার ছিল ৩৩ শতাংশ।

পর্যবেক্ষণে থাকাকালে স্ট্রোকের শিকার ৫০ শতাংশ রোগী কোনো প্রকার অতিরিক্ত উদ্বেগের শিকার হননি। কিন্তু, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা থাকায় কোভিড-১৯-ই তাদের স্ট্রোকের জন্য দায়ী বলে প্রায় নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা।

‘খুবই অপ্রচলিত এই তথ্যটি অন্যান্য কিছু গবেষণায় পাওয়া তথ্যের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। এর ফলে আমরা জানতে পারছি যে, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলেই অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়,’ আলটেশ্চোল যোগ করেন।

  • 28
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে