নারী নিয়ে মজে থাকতেই নেশা করতেন সঞ্জয়

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৮, ২০২২; সময়: ১২:২৮ pm |
খবর > বিনোদন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বলিউডে সর্বাধিক বিতর্কিত পুরুষের নাম সঞ্জয় দত্ত। এ কারণে তাঁর নামের পাশে জুড়ে আছে ‘ব্যাড বয়’ বদনাম। যদিও ক্যারিয়ারে একাধিক হিট সিনেমা উপহার দিলেও এই বদনাম ঘোচেনি।

উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনের সব স্তরে বিচরণ করেছেন সঞ্জয় দত্ত। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জেল খেটেছেন। নেশার জগতে বিচরণ করেছেন। এমনকি অসংখ্যা নারীর সঙ্গে যৌনমিলনে আসক্ত হয়েছেন।

তবে এখন সঞ্জয় অনেকটা স্বাভাবিক। আগের মতো বেপরোয়া জীবন যাপন করেন না। ‘গুড বয়’ হওয়ার চেষ্টায় কাজেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন তিনি। যদিও অতীতের সেই জীবন এই সময়ে এসে মোটেই ভোলেননি এ অভিনেতা।

সম্প্রতি ভারতীয় একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদকাসক্ত জীবনের দিনগুলো নিয়ে কথা বলেছেন সঞ্জয়। জানিয়েছেন, মাদক গ্রহণের ফলে তিনি ঘোরের মধ্যে চলে যেতেন। ভাবতেন, এটাই স্বাভাবিক জীবন।

সঞ্জয় হাসতে হাসতে বলেন, ‘মাদকাসক্ত হওয়ার পর আমি মাত্রাতিরিক্ত যৌনমিলনে আসক্ত হয়ে পড়ি। তখন নারীদের সান্নিধ্য পাওয়াটাই বড় কথা ছিল। ইচ্ছা করত, সবসময় নারীদের নিয়ে মজে থাকতে। আমি ভাবতাম নেশা করলেও জাতে ওঠা যায়। মেয়েরাও পাত্তা দেয়। এই ভাবনা থেকে টানা দশ বছর উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপন করেছি।’

তবে একটা সময় সঞ্জয় ভুল বুঝতে পারেন। বেরিয়ে আসতে চান নেশার জগত থেকে। ভর্তি হন মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

কিন্তু তারপরও মানুষ সঞ্জয়কে নেশাখোর মনে করতেন। আর সেকারণে সবাই তাঁকে দুয়ো দিয়ে বলেন, ‘ওই যে চরসি’। যদিও এসব কথা গায়ে মাখতে না তিনি। বরং শরীরচর্চায় মন দেন। নেশাগ্রস্ত ভাঙাচোরা চেহারা একেবারে বদলে ফেলে সুঠাম দেহ বানিয়ে ছেড়েছেন। তার এই পরিবর্তন দেখে সবাই তাঁর অতীত ভুলে বর্তমানের প্রশংসার পঞ্চমুখ হন।

এখানে সঞ্জুবাবার জীবনের ট্র্যাজেডি শেষ হয়নি। ২০২০ সালে করোনার অস্থির পরিস্থিতির সময় তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকের কাছ থেকে দুঃসংবাদটি শুনে তিন ঘণ্টার মতো কেঁদেছিলেন তিনি। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

সঞ্জয় বলেন, ‘লকডাউনের এক সকাল। সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হঠাৎ-ই শ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে দেখলাম। গোসলে গেলাম। ফিরেও অবস্থার উন্নতি হলো না। বুঝতে পারিনি যে, কী হচ্ছে! তাই ডাক্তার ডাকলাম। এক্স-রে রিপোর্টে ধরা পড়ল, আমার ফুসফুসের অর্ধেকাংশে পানি জমেছে। সেটা বের করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, “প্রথমে ডাক্তার ভেবেছিলেন, আমার হয়ত টিউবারকিউলোসিস (টিবি) হয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেটা ক্যানসার। কীভাবে এই খবরটা ওরা আমাকে দেবে-সেটা একটা বড় চিন্তার বিষয় ছিল। আমার বোন খবরটা জানাল। আমি বললাম, ‘ক্যানসার হয়েছে, এবার কী করব?’ তখনই আমরা পরিকল্পনা করলাম যে কোথায় চিকিৎসা করাব।”

প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন সঞ্জয়। ভিসা না পাওয়ায় ভারতেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। ধীরে ধীরে চিকিৎসা আর মনের জোরে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে জয়লাভ করেন।

এদিকে ১৪ এপ্রিল সঞ্জয় অভিনীত দক্ষিণী সিনেমা ‘কেজিএফ টু’ মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পর সিনেমাটি রমরমিয়ে ব্যবসা করছে। বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। এতে তিনি খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ছবির মুখ্য চরিত্রে আছেন যশ। এটি পরিচালনা করেছেন প্রশান্ত নীল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে