কাটপিসের ভয়ে ২৪টি সিনেমা ছেড়েছি: সাবা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২১; সময়: ১০:০৮ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : তার ছোটবেলা কেটেছে ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড আর আজিমপুর এলাকায়। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক আর শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন। নৃত্যশিল্পী থেকে অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি সোহানা সাবা।

সময় টেলিভিশনের ‘অতঃপর আমি’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন সোহানা সাবা। দীর্ঘ আলাপে জানিয়েছেন তার বিভিন্ন বিষয়। কথা বলেছেন আগামীর পরিকল্পনা নিয়েও। আলাপের চুম্বক অংশটুকু পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

নাচের শুরুটা কীভাবে হয়েছিল?
আমার মা আরণ্যকে অভিনয় করতেন, ছায়ানটে গান-নাচ করতেন। হাসান ইমাম উনার শিক্ষক ছিলেন। মা মণিই আমাকে আর ভাইকে ছায়ানটে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন। আমি নাচে, ভাই তবলায়। মায়ের থেকেই আমার পাওয়া।

অভিনয়ের শুরুটাও কী মায়ের হাত ধরেই?
ঠিক তাই। অভিনয়ের স্কুল তো আমাদের এখানে নেই। তাই নাচের স্কুলে ভর্তি হওয়া। শুরু থেকে আমার ইচ্ছা ছিল অভিনয়। মায়েরও তাই ছিল। আমি র‌্যাম্প করেছি, টিভিসির প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু আমি অভিনয়ের অপেক্ষায় ছিলাম।

এখন পর্যন্ত কতটি নাচের শো করেছেন?
সবমিলিয়ে এক হাজারের বেশি হবে। এক হাজারের বেশি স্টেজে আমি নাচ করেছি। আমি তো চার বছর বয়স থেকে নাচ শেখা শুরু করেছি। তারপর থেকে বাফা, ছায়ানট, স্কুল এবং বিভিন্ন স্টেজ শো মিলিয়ে এক হাজারের বেশি মঞ্চে ক্লাসিক্যাল ড্যান্স করেছি।

‘বিপ্রতীপ’ নাটকে যুক্ত হওয়া কীভাবে?
ম্যাগাজিনে আমার ছবি দেখে গিয়াস উদ্দিন সেলিম আমাকে কাস্টিং করেছিলেন। নাটকটির দ্বিতীয় পর্বের জন্য আমাকে নিয়েছিলেন। এভাবেই অভিনয় কথা শুরু। তখন থেকেই ভীষণ চুজি ছিলাম। খুব বেছে বেছে কাজ করতাম। একটা টার্নিং পয়েন্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

‘আয়না’ সিনেমার গল্প শুনতে চাই-
কোনোদিন ভাবিনি সিনেমায় অভিনয় করব। শহীদুল আলম সাচ্চু ভাইয়ের মাধ্যমে কবরী আপার সঙ্গে পরিচয়। সেখান থেকেই ‘আয়না’ সিনেমায় যুক্ত হয়েছি। তারপর তো আর ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই ‘আয়না’র কারণেই আজকে মানুষ আমাকে চেনে।

‘আয়না’র পর ‘খেলাঘর’-
আমি যখন ‘আয়না’ সিনেমার শুটিং করছিলাম তখন কিন্তু প্রচুর সিনেমার শুটিং হতো। তখন আমার টানা ৮ দিন শুটিং ছিল এফডিসিতে। ওই সময় কাটপিসের ভয়ে প্রায় ২৪টি সিনেমা ফিরিয়ে দিয়েছি। তখন কাটপিস সিনেমা খুব হতো। ‘খেলাঘর’ সিনেমার প্রস্তাব পাওয়ার পর বুঝলাম, এটি না করা আমার জন্য বোকামি হবে। বাবা-মাকে রাজি করিয়ে সিনেমাটি করেছি। ওই দুটি সিনেমা বাছাই করার কারণে আমি আমার ঘরানা বুঝতে পেরেছি।

সাবা কী নাক উঁচু স্বভাবের?
ভীষণ। কাজের ক্ষেত্রে আমি ভীষণ নাক উঁচু। এটা পছন্দ হয় তো সেটা হয় না। ডিরেক্টর পছন্দ হলে চরিত্র হয় না। ভালো কাজের সংখ্যাও তো বেশি ছিল না। এভাবে বাছাই করতে করতে আমার কাজের সংখ্যা কমে গেল। সেটা আমি আসলে খেয়ালও করিনি। এখন কিন্তু নতুন করে কাজ শুরু করতে পেরেছি। বেশ কিছু কাজ করছি।

‘ষড়রিপু’র পর কলকাতার সিনেমায় দেখা যায়নি কেন?
অঞ্জু ঘোষ, নায়ক রাজ রাজ্জাক, ফেরদৌস, জয়া আহসান, বাধঁন, মিথিলা, শাকিব খান অনেকেই কলকাতার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ওখানকার শিল্পীরাও আমাদের এখানে কাজ করেছে। এই আদান-প্রদানকে আমি পজিটিভভাবেই দেখি। কলকাতায় আমার আরও দুটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে। নতুন দুটি সিনেমায় চুক্তি হয়েছি। সেগুলো এখনই বলতে চাই না। কাজ শুরু হলে বলব।

‘খামার বাড়ি’ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
আমার প্রোডাকশন সেন্স অনেক ভালো। যেকোনো স্ক্রিপ্ট পড়ে বলে দিতে পারি কতদিন শুটিং করতে হবে। কোথায় কোথায় করতে হবে সব। নিজের প্রযোজনা সংস্থা থেকে বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে। ওয়েব সিরিজ করেছি। সিনেমা করার পরিকল্পনা আছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে