যে কারণে রাজশাহীর গুদামগুলোতে এতো তেল মজুত

প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২; সময়: ২:৩৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে তিন দিনের অভিযানে মজুদ করা প্রায় এক লাখ ৬৩ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় এক লাখ ৪০ হাজার এবং নগরীতে ২৩ হাজার লিটার। দুর্বল বাজার তদারকির সুযোগেই ব্যবসায়ীরা এই বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করার সুযোগ পেয়েছিলেন বলে ব্যবসায়ী ও বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীতে জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তার কার্যালয় বাজার তদারকির কাজটি করে থাকে। এই কার্যালয়ে একজন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (মার্কেটিং অফিসার), একজন পরিদর্শক, একজন মাঠ কর্মকর্তা, একজন সহকারী মাঠ কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী রয়েছেন। তবে অফিস সহকারীর পদটি এখন শূন্য।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (মার্কেটিং অফিসার) মনোয়ার হোসেন জানান, তাঁরা উপজেলাগুলোতে সব সময় অভিযানে যেতে পারেন না। একটি কার্যালয় থেকে নয়টি উপজেলায় অভিযানে যাওয়া সম্ভব হয় না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) কোনো অভিযানে ডাকলে তিনি যান। তবে তাঁদের পরিদর্শক সপ্তাহে এক দিন করে একটি বাজারের ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যান।

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার দেশের উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র। এখান থেকে পাশের জেলা ও রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ করা হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে বানেশ্বর বাজারের চারটি গুদাম ও একটি ট্রাক থেকে ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়।

এর মধ্যে ২৪ হাজার ৬৮৪ লিটার সয়াবিন ও ৬৭ হাজার ৯৩২ লিটার পাম তেল রয়েছে। এই দিনে গোদাগাড়ী বিদিরপুর থেকে ২০ হাজার লিটার এবং আগের দিন বাগমারার তাহেরপুর বাজার থেকে ২৭ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়। এছাড়াও বুধবার নগরের একটি গুদামে পাওয়া যায় ২৩ হাজার লিটার ভোজ্য তেল।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, নিয়ম অনুযায়ী পাইকারি বিক্রেতারা সর্বোচ্চ ৩০ মেট্রিক টন তেল সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত মজুত রাখতে পারবেন।

তবে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, মজুত রাখতে হলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের একটি লাইসেন্স থাকতে হয়। বানেশ্বর, তাহেরপুর ও গোদাগাড়ীর এই ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে সেই লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।

পুঠিয়ায় কত দিন আগে অভিযানে গেছেন- জানতে চাইলে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৯ এপ্রিল ইউএনও অভিযান চালালে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। এরপর আর যাওয়া হয়নি। আর সবর্শেষ দেড় বছর আগে বাগমারা উপজেলায় অভিযানে গিয়েছিলাম। অচিরেই প্রতিটি উপজেলায় তাঁদের কার্যালয় করা হবে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে