বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বনিম্ন পর্যায়ে

প্রকাশিত: মে ৮, ২০২২; সময়: ৯:৫৭ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : গত দেড় বছরের মধ্যে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ২২৪ কোটি ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করার পর রিজার্ভের আকার ৪ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। যা গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে ২০২০ সালের নভেম্বরে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১২৬ কোটি ডলার। বর্তমানের আমদানির খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। অথচ সাত-আট মাস আগেও ১০ থেকে ১১ মাসের আমদানি খরচ মেটানোর রিজার্ভ ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগে মাসে আমদানি খাতে গড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো। করোনার মধ্যে তা কমে গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

অন্যদিকে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়। আগস্টে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। সেপ্টেম্বরে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ বিলিয়ন ডলারে।

অক্টোবরে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয় ৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। নভেম্বরে তা বেড়ে ৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে উঠে। ডিসেম্বরে তা আরো বেড়ে ৮ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। জানুয়ারি মাসে ৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে।

সবশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৮ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি বাড়ার কারণেই রিজার্ভ কমছে। তাছাড়া প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার ধাক্কাও রিজার্ভে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির পণ্য আমদানি খরচের হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার প্রভাব কাটতে শুরু করায় অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ফলে মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামালসহ সব ধরনের পণ্যের আমদানি বেড়েছে। তাছাড়া করোনার পরে নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি পণ্যের খরচও বেড়েছে।

জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে আমদানিতে রিজার্ভ থেকে আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৫৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার বা ৫ হাজার ৮৭৭ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি।

তাছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে এপ্রিল সময়ে ১ হাজার ৭৩০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ২৪ শতাংশ কম। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে গত এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্সে গতি ফিরেছে।

গেল এপ্রিল মাসে দেশে ২০০ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। গত বছরের এপ্রিল মাসের পর এত রেমিট্যান্স এলো দেশে।

২০২১ সালের এপ্রিলে এসেছিল ২০৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। তার আগের দুই মাস ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এসেছিল যথাক্রমে ১৬৩ কোটি ৬ লাখ ও ১৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার।

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। এরপর গত ১১ মাসের কোনো মাসেই ২০০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে