গরিবের ‘নাগালের বাইরে’ মাংসের বাজার

প্রকাশিত: মে ২, ২০২২; সময়: ১২:১৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঈদ ঘনিয়ে এসেছে। বিশেষ দিনে ঘরে বিশেষ খাবারের চাহিদা থাকে সবার। ঈদের দিন গরুর মাংস খেতে চেয়েছিলেন মোরশেদা বেগম। ষাটোর্ধ্ব মোরশেদার স্বামী নেই, সন্তানরাও সেখানে খোঁজ নেন না। এই বয়সেও অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করেন তিনি। পাশাপাশি মাঝেমধ্যে কেউ তাকে সহযোগিতা করেন। এভাবে চলে যাচ্ছে তার দিন। ঈদকে সামনে রেখে এক কেজি গরুর মাংস কেনার সাধ্য হয়নি এই নারীর। বাজারে গিয়ে শুধু দেখে এসেছেন মাংস।

আলাপকালে মোরশেদা জানান, এক কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা। তা কেনার সাধ্য তার নাই।

মোরশেদা বলেন, ‘গরুর মাংস কিনতাম গেছিলাম। ৭০০ টাকা কেজি। ক্যামনে কিনতাম! আধা কেজিও কিনতাম পারলাম না। ট্যাহা আছে দুইশো।’

মোরশেদার মত অনেকেই হয়তো বাজারে গিয়ে মাংস না কিনে ফিরতে হয়েছে।

গরুর মাংস কিনতে না পেরে মুরগি নিয়ে ঘরে ফিরেছেন জুম্মন ব্যাপারী। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এই বাসিন্দা ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘কি করুম? দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই। চাকরি নাই, টাকা নাই। ঈদ তো আছে। একটা দিন সবারই ভালো-মন্দ খাইতে মন চায়। গরুর মাংসের যে দাম, তাতে আর গরুর মাংস খাওয়া লাগবে না। মুরগি কিনা নিয়ে আসছি। সেটা দিয়েই চলবে।’

ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততটাই বাড়ছে মাংসের দাম। রাজধানীর বাজারে সব ধরনের মাংসের দাম এখন চড়া। বাড়তি দামে মাংস কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তদের। আর মাংস অনেকটা ‘নাগালের বাইরেই’ চলে গেছে দরিদ্র মানুষের।

রোববার (১ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে গরুর মাংস বিক্রি হতে দেখা গেছে ৭০০ টাকা কেজি দরে।

মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ বাজার ঘুরে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বিক্রেতা আবু সাদ ঢাকা মেইলকে জানান, ঈদের আগে গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় মাংসের দাম বেড়েছে। একই এলাকার কৃষি মার্কেটে গিয়েও দেখা যায়, একই দামে বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। এই দুই বাজারে হাজার ছুঁয়েছে খাসির মাংসের দাম।

এদিকে গরুর মাংসের বাড়তি দামের কারণে অনেকে ছুটছেন মুরগির দোকানে। তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি আজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি করে।

একই হারে বেড়েছে লেয়ার ও কক মুরগির দামও। কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকা কেজি দরে। আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা দরে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে