মসলার দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২২; সময়: ১১:২৯ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভোজ্যতেলের বাজারে কয়েক মাস ধরেই অস্থিরতা চলছে। একই অস্থিরতা এখন দেখা দিয়েছে মসলাজাতীয় পণ্যের বাজারে।

গত ২০ থেকে ২৫ দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। একের পর এক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ভোক্তাদের।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও নাখালপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিকভাবেই বেড়েছে মসলার দাম।

ক্রেতাদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু সেই ঈদের বাকি এখনও প্রায় আড়াই মাস। অথচ কোনো কারণ ছাড়াই প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার থেকে কারওয়ান বাজারে মসলা কিনতে এসেছিলেন গৃহিণী হাবিবা সুলতানা।

তিনি বলেন, বাজার এখন ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা যখন-তখন জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। নিরুপায় হয়ে ক্রেতাদের তা মেনে নিতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আবদুল আলী বলেন, কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে বেড়ে সয়াবিন তেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এখন মসলারও একই অবস্থা। এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গসহ সব ধরনের মসলার কেজিতে রমজানের আগের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা।

মাসখানেক আগে আমদানি করা ভারতীয় প্রতি কেজি জিরার দাম ছিল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা। ৫০ টাকা বেড়ে এখন প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকা। ইরানি জিরার দাম ছিল ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫২০ টাকায়।

প্রতি কেজি দারুচিনির দাম ছিল ৩৬০ থেকে ৩৬৫ টাকা। ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা দাম বেড়ে এখন পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৩৯৫ থেকে ৪১০ টাকা। কেজিপ্রতি ১০০ টাকার মতো বেড়েছে লবঙ্গের দাম।

মাসখানেক আগে প্রতি কেজি লবঙ্গ পাওয়া যেত এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ১৫০ টাকায়। এখন কিনতে খরচ পড়ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ২৫০ টাকা।

দাম বেড়েছে এলাচেরও। এক মাস আগে ভালো মানের এলাচের কেজি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন তা কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকা।

তিন বছর ধরে ক্রেতাদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে চলেছে পেঁয়াজ। কিন্তু দেশি পেঁয়াজের ফলন এবার ভালো হওয়ায় দাম মোটামুটি ক্রেতার নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে গত চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা।

বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়, যার দাম গত সপ্তাহে ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, যা আগে কেনা যেত ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।

আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। প্রতি কেজি রসুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় এবং আমদানি করা রসুন ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া আমদানি করা আদার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকা। তবে আগের মতোই দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারদরের তথ্যমতে, গত এক মাসের ব্যবধানে দেশি রসুনের দাম ১০ শতাংশ, জিরার ৮ শতাংশ ও এলাচের দাম ৫ শতাংশ বেড়েছে। আর এক বছরের ব্যবধানে দারুচিনির দাম বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ।

কারওয়ান বাজারের মাহমুদা জেনারেল স্টোরের মাসুদ আলম বলেন, পাইকারি পর্যায়ে মসলার দাম বেড়ে গেছে। কোনো মসলার দাম বেড়েছে এক মাস আগে, কোনোটির আবার বেড়েছে ১৮ থেকে ২০ দিন আগে। খুচরা ব্যবসায়ীদের পুঁজি কম। তারা পণ্য কম রাখে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে। তারা পণ্য মজুত করে দাম বাড়িয়ে নিতে পারে। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীদের সেই সুযোগ থাকে না। তা ছাড়া বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের তদারকি থাকায় খুচরা পর্যায়ে ক্রেতার কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তবে পাইকাররা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে এ বছর মসলার দাম বাড়েনি। বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর কোনো মসলার দাম বাড়েনি; বরং কমেছে।

পাইকারদের কাছে প্রচুর পরিমাণে পণ্য মজুত রয়েছে। পাইকারি বাজারে মসলার দাম বাড়েনি। খুচরা বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ তাদের জানা নেই।

প্রসঙ্গত, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর কারণে গত ২২ এপ্রিল রাজধানীর মৌলভীবাজারে কয়েকটি মসলার দোকানে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, বাজারে ভোক্তা অধিদপ্তরের তদারকি অব্যাহত আছে। কেউ অযৌক্তিক উপায়ে দাম বাড়ালে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে