দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২২; সময়: ৬:১৮ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সরকার চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে স্বীকার করেছেন খোদ কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।সোমবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

এসময় তিনি বলেন, আমরা দানা জাতীয় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সেটাও এ বছর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কিন্ত এই মূহুর্তে সরকারি গুদামে চালের সর্বোচ্চ মজুদ থাকলেও, হু হু করে বাড়ছে দাম। আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিনা। আপনারা জেনে খুুশি হবেন এই মুহূর্তে খাদ্যগুদামে সর্বোচ্চ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষি প্রযুক্তিগুলো টেকসই হচ্ছে না। কৃষি প্রযুক্তিবিদদের মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তি নিয়ে ধানের উৎপাদন বাড়াতে টার্গেট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এর আগে, গত বুধবার চালের দাম শিগগিরই স্থিতিশীল হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন কৃষিমন্ত্রী। সেসময় ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছিলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিকট খাদ্যের মজুত আছে ২০ লাখ টন, যা যে কোন সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। উপজেলা পর্যায়ে ওএমএস শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকে। এপ্রিল মাসেই নতুন চাল বাজারে আসবে। ফলে, চালের দাম শিগগিরই স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক হবে।

এছাড়া একইদিন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছিলেন, চালের মজুত সর্বকালের সর্ববৃহৎ। চাল ৩০ টাকা কেজি ও আটা ১৮ টাকা কেজিতে দেয়া হবে। যদিও সরকারিভাবে এ চালের আমদানি খরচ ৩৬-৩৭ টাকা। পঁচে যাওয়ার মতো চাল গোডাউনে নেই। মজুতকৃত চাল মানসম্পন্ন, ফলে মানুষ খাবে।

বাজারে কমছেই না চালের দাম। মিলগেট, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েই চলেছে। পাইকারি ও খুচরায় কেজিতে চালের দামের পার্থক্য চার-পাঁচ টাকা থেকে ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ ভোক্তা চিকন ও মাঝারি মানের চাল খায়। এই চাল উৎপাদন হয় বোরো মৌসুমে। গত বোরো মৌসুমের ধান-চালের মজুদ প্রায় শেষ। ফলে সরবরাহ কম। আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় পরিবহন খরচ বেড়েছে। বাড়তি এই পরিবহন খরচ চালের দামে প্রভাব ফেলেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে