পাবনায় নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় কমছে দাম

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২২; সময়: ৮:২৮ pm |

এম এ আলিম রিপন, সুজানগর : দেশের উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী পাবনার সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ। তবে নায্য দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ায় হতাশ এ অঞ্চলের পেঁয়াজ চাষীরা।

বর্তমানে সুজানগর পৌর হাট সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ব্যাপক পেঁয়াজ আমদানি হতে শুরু করেছে। রবিবার সুজানগর পৌর হাটে গিয়ে দেখা যায় মানভেদে এ নতুন মূলকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১১০০ টাকা মণ দরে । সুজানগর উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানাযায়, গত বছর সুজানগরে ১৬’শ হেক্টর জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজের আবাদ হলেও এবারে এই উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে সাড়ে ১৬’শ হেক্টর জমিতে ।

অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক সময়ে সার বীজ দিতে পারায় কৃষকেরা প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬০ থেকে ৭০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ এবারে ঘরে তুলছে। পৌর হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা চরপাড়া গ্রামের পেঁয়াজ চাষী রফিক হোসেন বলেন, পেঁয়াজ উৎপাদন করতে প্রতি বিঘায় তাদের শ্রমিক,সার,বিষ সহ যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে আর বর্তমানে তারা যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন তাতে কিছুটা লোকসান হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম সর্বনিম্ন যদি মণ প্রতি তেরশত টাকা হয় তাহলে কৃষক তাদের খরচের টাকাটা অন্তত ঘরে তুলতে পারবে।

পেঁয়াজ চাষী নুরুজ্জামান বলেন, আমি প্রায় ২২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি, কিন্তু বর্তমানে পেঁয়াজের যে দাম তাতে উৎপাদন খরচ না উঠায় চিন্তায় রয়েছি। পেঁয়াজ ব্যবসায়ী হারুন মন্ডল জানান, এই উপজেলার বৃহত্তর গাজনার বিল ও চর অঞ্চলে যেহেতু এই মূলকাটা পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে তাই চরঞ্চালের পার্শ্ববর্তী শ্যামগঞ্জ, বোনকোলা, রাইপুর ও পৌর হাট-বাজারেই সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের আমদানি হয়ে থাকে।

আর এই পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কেনার জন্য এখানে এসে থাকেন। এই পেঁয়াজ ঘরে বেশি দিন সংরক্ষণ করে রাখা না যাওয়ার কারণে কৃষকেরা মাঠ থেকে তুলেই স্থানীয় হাট বাজারে দ্রুত বিক্রি করে দিয়ে থাকেন ।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম রবিবার যুগান্তরকে জানান, নতুন মৌসুমি এ মূলকাটা পেঁয়াজ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠতে শুরু করায় এখন থেকে আস্তে আস্তে পেঁয়াজের দাম আরো কিছুটা কমবে । এছাড়া কৃষকেরা বর্তমানে তাদের জমিতে দানা পেঁয়াজ রোপণ করতে শুরু করেছেন। এবং এ উপজেলায় দানা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার পাঁচশত হেক্টর জমিতে। নতুন এ দানা পেঁয়াজ আগামী ৩ মাসের মধ্যেই কৃষক ঘরে তুলতে পারবে বলে জানান তিনি।

 

 

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে