বাড়ছে দাম, কমছে নতুন গাড়ির চাহিদা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১; সময়: ১:৪৯ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ভক্সওয়াগন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশই বৈদ্যুতিক গাড়ি বানাতে চান। ২০৪০ সালের মধ্যেই কার্বন নিঃসরণমুক্ত গাড়ির বাজার ধরতে চায় জার্মানির এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু করোনার কারণে চরম যন্ত্রাংশ স্বল্পতায় ভুগছে বিশ্বখ্যাত সব গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

জার্মানির আরেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেইমলার কর্তপৃক্ষ বলছে, গাড়ি শিল্পে করোনার প্রভাব খুবই নেতিবাচক। ২০২২ আর ২০২৩ সালের আগে গাড়ির উৎপাদন স্বাভাবিক হবে না বলেও জানায় ডেইমলার চেয়ারম্যান ওলা কালেনিয়াস। গত বছরের শেষদিকে কম্পিউটার চিপের ঘাটতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। করোনার কারণে চিপ উৎপাদন কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এমন সংকট তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি উন্নত হতে শুরু করে।

চলতি বছরের শেষ দিকেই অটোমোবাইল শিল্প পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হয়েছিল। স্বস্তি ফিরছিল গ্রাহকদের মাঝেও। কিন্তু সেই আশা এখন ম্লান হয়ে গেছে। প্রধান চিপ উৎপাদনকারী এশিয়ার দেশগুলোতে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় চিপের ঘাটতি আরও বাড়ছে। এ কারণে আকাশছোঁয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে গাড়ির দাম। নতুন করে চিপের ঘাটতি হওয়ায় গাড়ি উৎপাদন করোনার আগের অবস্থায় যাচ্ছে না। গাড়ির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ পরিস্থিতিতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

আর শুধু চিপ নয়, ঘাটতি তৈরি হয়েছে অন্যান্য যন্ত্রাংশেরও। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকপর্যায়ে গাড়ির দাম রেকর্ড বেড়েছে। এক্ষেত্রে নতুন ও রিকন্ডিশন গাড়ির দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে গাড়ি ভাড়াও। গাড়ির দাম বাড়ার বিষয়টি আগামী বছরও অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের ঘাটতি আছে। গাড়ি নির্মাতারা সেমিকন্ডাক্টার চিপ, হারনেস, প্লাস্টিক ও কাচের ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছেন। যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে জর্জরিত জেনারেল মোটরস ও ফোর্ড উত্তর আমেরিকায় কয়েকটি কারখানা এক থেকে দুই সপ্তাহ করে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ফোর্ডের জনপ্রিয় পিকআপ ট্রাক উৎপাদনের কারখানাও বন্ধ।

গত মাসের শেষ দিকে চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের ঘাটতি এতোটাই হয় যে, জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা জাপান ও উত্তর আমেরিকায় দুই মাসের জন্য গাড়ির উৎপাদন অন্তত ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেবে বলে ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছিল। এক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে টয়োটার ৩ লাখ ৬০ হাজার গাড়ি কম উৎপাদন হবে। হোন্ডার ডিলাররাও গাড়ির সরবরাহ সংকটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংস্থাটির মুখপাত্র জানান, এমন পরিস্থিতিতে, পুরো শিল্পের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হচ্ছে। এমন সংকটের কারণে চাপ পড়ছে ক্রেতাদের ওপর। কারণ বাড়ছে গাড়ির দাম। গাড়ি কেনাই কমিয়ে দিয়েছেন ক্রেতারা। আগস্টে সরবরাহ ঘাটতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি বিক্রি প্রায় ১৮ শতাংশ কমে গেছে।

এছাড়া ১০ লাখেরও কম গাড়ি থাকার কথা জানিয়েছে মার্কিন ডিলাররা। বর্তমানে অনেক ডিলারের কাছে নতুন গাড়ির সংখ্যা শূন্যে নামার কাছাকাছি। সরবরাহ কম ও উচ্চ দাম নিয়ে ক্রেতারাও অস্বস্তিতে আছেন।

  • 37
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে