বন্যায় লোকসান আতঙ্কে সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১; সময়: ১০:৪১ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জের ৪টি উপজেলার শত শত তাঁত কারখানা। নষ্ট হচ্ছে তাঁত কারখানার মূল্যবান যন্ত্রাংশ। একদিকে উৎপাদন বন্ধ অন্যদিকে পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে সুতাসহ অন্যান্য উপকরণ। এতে লোকসান আতঙ্কে জেলার হাজার হাজার তাঁতি।

সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার বাঐতারা তাঁতপল্লীর ব্যবসায়ী আনোয়ার সরকার। গত ২ বছর ধরে করোনার প্রভাবে হাটবাজার বন্ধ থাকায় চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। এর মধ্যেই বন্যার পানিতে গত ৩ সপ্তাহ ধরে পানিতে তলিয়ে আছে তার ১২টি তাঁত। এতে নষ্ট হচ্ছে তাঁতের মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

আনোয়ার সরকার বলেন, ‘বন্যা আমাকে পুরোপুরি ক্ষতির মুখে ফেলে দিল। আমার এখানে ৩০টি মেশিন রয়েছে এবং প্রত্যেকটি মেশিনে একটি করে ভিম রয়েছে। প্রতিটি ভিমের দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। সব বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চিন্তায় পড়ে গেলাম এই ক্ষতি কীভাবে পোষাব।’

তার মতো একই অবস্থা জেলার যমুনা নদীতীরবর্তী ৪ উপজেলার হাজার হাজার তাঁতির। দীর্ঘদিন পানিতে তলিয়ে নষ্ট হচ্ছে তাঁত কারখানার যন্ত্রাংশ। পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে সুতাসহ বিভিন্ন উপকরণ। আর শাড়ি উৎপাদন বন্ধ থাকায় বেকার হয়েছে পড়েছেন ডুবে থাকা তাঁত কারখানার শ্রমিকরা। সব মিলিয়ে চরম লোকসানের মুখে জেলার ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্প।

জেলার চেম্বার নেতা বলছেন, বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতিদের সঠিক তালিকা তৈরি করে সরকারি প্রণোদনার পাশাপশি সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করলে ঘুরে দাড়াতে পারবে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতিরা। সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক রাশেদ ইউসুফ জুয়েল বলেন, ‘বন্যায় তাঁতিরা বড় একটা লোকসানের মুখে পড়ল। পানি নেমে গেলে এবং সরকারের গৃহীত প্রণোদনা বাস্তবায়ন হলে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তাঁতিরা।

তাঁত ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, জেলার তাঁতশিল্পে পাওয়ারলুম ও হ্যান্ডলুম রয়েছে প্রায় ১০ লাখ। আর চলছি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতির সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে