‘৫ বছরেও ইলিশ রপ্তানির সম্ভাবনা নেই’

প্রকাশিত: আগস্ট ২৮, ২০২১; সময়: ২:১৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ রপ্তানির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২১ উপলক্ষে শনিবার (২৮) রাজধানীর রমনায় মৎস্য ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, ইলিশ রক্ষার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। জাটকা সংরক্ষণকালীন সময়ে জেলেদের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বরফকল বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল জব্দ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ইলিশ হারিয়ে যায়নি। জলবায়ু ও নদীর গতি-প্রকৃতি পরিবর্তনের কারণে এবার কোনো কোনো নদীতে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। মুজিববর্ষে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটজ’ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার মেট্রিক টন সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক সরকারের রাজস্ব বাজেটের আওতায় ২৪৬ দশমিক ২৭ কোটি টাকা অর্থায়নে চার বছর মেয়াদি ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর মাধ্যমে আইন বাস্তবায়ন, অভয়াশ্রম স্থাপন, ৩০ হাজার জেলে পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ১০ হাজার বৈধ জাল বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ইলিশ সম্পদের স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য দরিদ্র জেলেদের সঞ্চয়ী করে তোলা ও আপদকালীন জীবিকা পরিচালনা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সহায়ক তহবিল গঠনের নিমিত্ত ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার ‘ইলিশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন তহবিল’ গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় জাটকা রক্ষায় ফেব্রুয়ারি হতে মে পর্যন্ত পরিবারপ্রতি মাসিক ৪০ কেজি এবং ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের জন্য পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে চাল প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেড় বছরেও শেষ হয়নি সিপি কারখানার লকডাউন! মন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া ৬৫ দিন সামুদ্রিক মাছ ধরা নিষিদ্ধকালীন গত বছরের মতো এ বছরও দেশের ১৪টি জেলার ৬৮টি উপজেলার ২ লাখ ৯৯ হাজার ১৩৩টি জেলে পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি হারে মোট ২৫ হাজার ৬ শত ৯৫ দশমিক ৩৭ মেট্রিক টন ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালীন মোট ৯ লাখ ২ হাজার ৩ শত ৩৮টি জেলে
পরিবারকে মোট ৬৬ হাজার ৭ শত ৯১ দশমিক ৭২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। শ ম রেজাউল আরও বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় ৪ শতাংশ সুদে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় জুলাই ২০২১ পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪ শত ৩৮ জন মৎস্যচাষিকে ১৫৩ দশমিক ৭২ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প’ এর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭৭ হাজার ৮২৬ জন মৎস্যচাষিকে প্রায় ৯৯ কোটি ৭০ লাখ ২৭ হাজার টাকা সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে

  • 157
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে