১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই দিতে হবে ভ্যাট রিটার্ন, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২১; সময়: ১:০৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ১৫ জুলাই শেষে হচ্ছে গত মাসের ভ্যাট রিটার্নের প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়সীমা। কিন্তু সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ থাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ। বিপণিবিতানগুলো বন্ধ। জরুরি সেবার আওতায় পণ্য ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত পরিসরে খোলা রয়েছে। এমন অবস্থায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভ্যাট রিটার্ন দিতে পারছে না।

অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব খাতকে জরুরি সেবার আওতায় আনার পর সীমিত পরিসরে হলেও মাঠপর্যায়ে ভ্যাট অফিসগুলো খোলা রাখা হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সময় বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এর মানে করোনার তীব্র সংক্রমণের মধ্যেও আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে জুন মাসের বেচাকেনার হিসাব জানিয়ে দেশের সব ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ কমিশনারেটে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী জরিমানা ও সুদ আরোপ হবে।

নতুন ভ্যাট আইনে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান আছে। তা না হলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং নির্ধারিত ভ্যাটের টাকার ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপ হয়। প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে সময় বৃদ্ধি করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ দুর্যোগের মধ্যে অনেক মালিক প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেননি। রিটার্ন প্রস্তুত করা যাচ্ছে না। তাহলে তাঁরা কীভাবে রিটার্ন দেবেন? রিটার্ন না দিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টার কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছি।’

অন্যদিকে, এনবিআরের মাঠপর্যায়ে ভ্যাট অফিসগুলো সীমিত জনবল দিয়ে খোলা রেখেছে। অনেক সার্কেল অফিসে শুধু ভ্যাট রিটার্ন নেওয়ার জন্য কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী যান। অবশ্য বেশ কয়েকটি ভ্যাট কমিশনারেটে প্রায় শতভাগ প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমার ব্যবস্থা করেছে। যেমন যশোর ভ্যাট কমিশনারেট। জানা গেছে, এই কমিশনারেটে ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ রিটার্ন জমা পড়ে গেছে।

যশোর ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, ‘১০ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ভ্যাট কমিশনারেটে কয়েকজন কর্মকর্তা থাকেন, যাঁরা অনলাইনে রিটার্ন দিতে সহায়তা করেন।’ এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আড়াই লাখের মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। তাদের দুই লাখের বেশি নিয়মিত রিটার্ন দেয়। আর এক লাখের বেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনলাইনে বা ঘরে বসেই রিটার্ন জমা পড়ে।

  • 311
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে