রডের দাম কমাতে যা চাওয়া ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১; সময়: ২:০৬ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক :  দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি টন ৫০০ ডব্লিউ বা ৬০ গ্রেডের রড ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ছয় মাস আগেও রডের প্রতি টনের দাম ছিল ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা রডের কাঁচামাল গলনশীল স্ক্র্যাপের (মেল্টিং স্ক্র্যাপ) দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলছেন।

রডের দাম কমাতে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) কাঁচামাল আমদানিতে টনপ্রতি শুল্ক ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকায়, অগ্রিম আয়কর ৫০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় এবং বিক্রি পর্যায়ের ভ্যাট ২ হাজার টাকা থেকে ৫০০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। বিএসএমএ গত শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানায়।

ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের এই সংগঠন বলেছে, দেশে রড উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল মেল্টিং স্ক্র্যাপ তথা গলনশীল স্ক্র্যাপের যে চাহিদা রয়েছে, তার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয়। বাকি ১৫-২০ শতাংশের জোগান দেশের ভেতর থেকে আসে। স্ক্র্যাপ আমদানি করা হয় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে নিজস্ব চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই সব দেশ রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। তা ছাড়া চীন নিজস্ব কাঁচামাল থেকে লৌহজাত পণ্য উৎপাদন করলেও করোনাকালীন দেশটি মেল্টিং স্ক্র্যাপ আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়। এতে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদায় একটা বড় প্রভাব পড়েছে।

বিএসএমএ বলছে, গত বছরের অক্টোবরে মেল্টিং স্ক্র্যাপের প্রতি টনের মূল্য ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ মার্কিন ডলার। বর্তমানে সেটি বেড়ে ৫৫০ থেকে ৫৯০ ডলার হয়েছে। সে কারণে ভারতসহ বেশ কিছু দেশ রডের কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমিয়েছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও মনে করছেন, এই কাঁচামাল আমদানির ওপর আরোপিত কাস্টমস ডিউটি, অগ্রিম আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) হার না কমালে দেশের ইস্পাত খাতে কাঁচামালের জোগানে সংকট দেখা দেবে। এর ফলে রডের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমানে মেল্টিং স্ক্র্যাপ আমদানিতে টন প্রতি শুল্কের (সিডি) পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ টাকা ও অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫০০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ৪ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে রডের মূল্য কমার তেমন সুযোগ নেই। কারণ, অগ্রিম কর বিক্রয় পর্যায়ে রডের ওপর টনপ্রতি আরোপিত ২ হাজার টাকা ভ্যাট থেকে রড উৎপাদনকারীরা সমন্বয় করতে পারতেন। তাই রডের মূল্য কমাতে হলে টনপ্রতি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক দেড় হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকায়, অগ্রিম আয়কর ৫০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় এবং বিক্রি পর্যায়ের ভ্যাট ২ হাজার টাকা থেকে ৫০০ টাকায় নির্ধারণের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

বিএসএমএ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, রড উৎপাদনে ব্যবহৃত কেমিক্যাল বা রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়ের দামও বেড়েছে। এটির টনপ্রতি দাম ৮০০ থেকে ৮৫০ ডলার বেড়ে এখন ১ হাজার ৪০০ ডলার থেকে ১ হাজার ৪৫০ ডলারে উঠেছে। করোনা মহামারির কারণে কনটেইনারবাহী জাহাজগুলো সব দেশেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকে। ফলে কাঁচামাল সরবরাহকারী কনটেইনারের ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, আগামী মাসে কনটেইনারের ভাড়া আরও বাড়বে। সে জন্য এই খাতের দেশীয় উদ্যোক্তারা বলছেন, সরকার শুল্ক ও কর না কমালে রডের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

সংগঠনটির দাবি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যেই অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সামগ্রিকভাবে নির্মাণ খাতে ভাটা দেখা দিয়েছে। এতে নির্মাণশিল্পের সঙ্গে জড়িত সিমেন্ট, ইট, বালু, পাথর, হার্ডওয়্যার, টাইলস কারখানাগুলো বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এই সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা না করা হলে দেশের নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

  • 301
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে