উৎপাদিত ফসলের কৃষক বিক্রি করেন ৬৫%

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১; সময়: ২:৩৭ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষক মাঠে ফসল ফলান। উৎপাদিত ফসলের একটা অংশ নিজস্ব ভোগের জন্য রেখে বাকিটা বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের কতটুকু ভোগ করেন আর কতটুকু বিক্রি করেন, সে রকম কোনো তথ্য ছিল না এত দিন। এবারেই প্রথম তা নিয়ে একটি জরিপ করেছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, একজন কৃষক যদি ১০০ টাকা মূল্যের খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন, তা থেকে ৩৫ টাকার পণ্য নিজেদের ভোগের জন্য রেখে বাকি ৬৫ টাকার পণ্য বিক্রি করেন। অর্থাৎ, ১০০ মণ খাদ্যশস্যের মধ্যে নিজেরা ভোগ করেন ৩৫ মণ, বিক্রি করেন ৬৫ মণ। ফলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২০ টাকার মতো ফল নিজেরা খান আর ৮০ টাকার ফল বিক্রি করে দেন কৃষক।

‘কৃষিপণ্যের স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত’ শীর্ষক এক জরিপে এমন তথ্য ওঠে এসেছে। ১৫০ ধরনের পণ্যের তথ্য বের করা হয়েছে এই জরিপে। সোমবার বিবিএস আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের ফল প্রকাশ করে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত জরিপের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী।

বিবিএসের মহাপরিচালক তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শশাঙ্ক শেখর ভৌমিক ও মেসবাহুল আলম। জরিপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বিবিএসের প্রকল্প পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সাধারণত একজন কৃষক তাঁর পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পর যে পরিমাণ কৃষিপণ্য অবশিষ্ট থাকে, সেটাই বিক্রি করে থাকেন। বাজারে বিক্রি হওয়া কৃষিপণ্যের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত।

বিবিএসের প্রকল্প পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, দেশের ৬৪ জেলার ৩৮৬টি উপজেলার ৫৫০টি মৌজায় জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। এতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৫ হাজার ৩১৫টি কৃষিখানার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই পরিবারগুলোর সদস্যসংখ্যা ২৫ হাজার ২৪৭। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ২৮৫ ও নারী ১১ হাজার ৯৬২ জন। খানার গড় আকার ৪ দশমিক ৮ জন।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়, গত ২০১৯ সালে সারা দেশে ধান, গম, বার্লি, কাউন ইত্যাদি মিলিয়ে ৫ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৪ টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়েছে। এর ৩৫ শতাংশ কৃষকেরা নিজেদের ভোগের জন্য রেখেছেন, বাকি ৬৫ শতাংশ বিক্রি করেছেন। খাদ্যশস্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে উচ্চফলনশীল (উফশী) বোরো ধান, যা মোট পণ্যের ৬৮ শতাংশ।

ওই বছর ডালজাতীয় শস্য উৎপাদিত হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৫০৮ টন, যার ৮১ শতাংশই কৃষক বিক্রি করেছেন। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে মটর, ৮৭ শতাংশ। এরপরে আছে যথাক্রমে ছোলা ও খেসারি। ২০১৯ সালে সারা দেশে তেলজাতীয় বীজের উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ২১ হাজার ৪২৯ টন। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৭৯ শতাংশ। সবজিজাতীয় ফসলের ৩০ শতাংশ নিজেদের ভোগের জন্য সংরক্ষণ করে বাকি ৭০ শতাংশ বিক্রি করেছেন কৃষক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় টমেটো ও গাজর। শাকসবজি দুটি মিলিয়ে উৎপাদনের ৭৭ শতাংশ বিক্রি ও ২৩ শতাংশ সংরক্ষণ করেছেন কৃষক।

জরিপের বছর দেশে মসলা উৎপাদন হয়েছে ২৫ লাখ ৮৬ হাজার টন। এর মধ্যে ১৪ শতাংশ নিজস্ব ভোগের জন্য রেখে ৮৬ শতাংশ বিক্রি করেন কৃষক। মসলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজারজাত হয়েছে পেঁয়াজ, ৮৭ শতাংশ। এরপরে আছে ধনে ও রসুন। ওই বছর দেশে আম, কাঁঠাল, আনারস, কলাসহ সব ফলের উৎপাদন হয়েছে ৪৮ লাখ টন। এর ৮০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে, ২০ শতাংশ কৃষকেরা নিজেরা খেয়েছেন। উৎপাদিত গোখাদ্যের মাত্র ১৭ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে পান। এটির মোট উৎপাদনের ৯৯ শতাংশই বিক্রি করেন কৃষক।

জিয়াউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে আরও বলেন, বাংলাদেশ বিগত কয়েক দশক ধরে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে সেবা ও শিল্প নির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তারপরও অর্থনীতিতে ৪১ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে কৃষি খাতে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে