বিশ্বাসভঙ্গের পর এল বিশ্বাসের ঋণ নীতিমালা

প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২১; সময়: ১২:২০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ব্যবসায়ীদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে ব্যাংকগুলো। এসব ঋণ এলটিআর (লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট বা বিশ্বাসের ঋণ) নামে পরিচিত। এসব ঋণ ব্যবসায়ীরা নিয়েছেন আমদানি করা নিত্যপণ্য বাজারজাত করতে। ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস। কিন্তু বিশ্বাসের সেই ঋণ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীই বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। যথাসময়ে ব্যাংককে টাকা ফেরত দেননি। ফলে অনেক ঋণ খেলাপি হয়ে আটকে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য বা ট্রেডিং পণ্য, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন খাতে আমদানি দায় পরিশোধের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অর্থায়নের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক চট্টগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারির পর ২০১৮ সালে এই নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। রবিবার তা আলোর মুখ দেখেছে।

প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো এলটিআর হিসেবে যে অর্থায়ন করে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ক্ষেত্রে এ ধরনের অর্থায়নকে এমটিআর (মুদারাবা ট্রাস্ট রিসিপ্ট) বা এমপিআই (মুদারাবা পোস্ট ইমপোর্ট) হিসেবে অভিহিত করা হয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এলটিআর বা এমটিআর বা এমপিআইসহ এ ধরনের যেকোনো অর্থায়ন এখন থেকে ‘আমদানি-পরবর্তী অর্থায়ন’ নামে অভিহিত হবে। এই ধরনের ঋণের মেয়াদ হবে নিত্যপণ্যের আমদানি-পরবর্তী অর্থায়ন সৃষ্টির তারিখ থেকে অনধিক ৯০ দিন। আর শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে অর্থায়ন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ দিন।

এ ছাড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, ঋণপত্র বা আমদানি-পরবর্তী অর্থায়নের ক্ষেত্রে জামানতের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। গ্রাহকের অনুকূলে ঋণপত্র স্থাপন ও আমদানি-পরবর্তী অর্থায়নের আওতায় ঋণ অনুমোদনের জন্য ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টিও উল্লেখ থাকতে হবে।

আমদানি-পরবর্তী অর্থায়ন সুবিধা বা ঋণ পুনর্গঠন করতে হলে তার যথার্থতা যাচাই করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিন এবং শিল্পের কাঁচামালের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় দিতে পারবে ব্যাংক। এ ধরনের ঋণ তলবি ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে