রাজশাহীতে পোল্ট্রির দাম একদিনেই ১৫ টাকা বেশি

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২১; সময়: ২:১৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে পোল্ট্রি মুরগির দাম। সাথে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। এছাড়া দাম অপরিবর্তিত রয়েছে মাংস ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাজশাহীর সাহেববাজার ও অন্যান্য বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি থাকলেও লকডাউনে ক্রেতা সমাগম কম। তাই চাহিদাও কম। এজন্যই দ্রব্যের দাম বাড়েনি। বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। অন্যদিকে, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে খুব একটা অসন্তোষ প্রকাশ করেননি ক্রেতারাও। তবে রমজানেও যেন বাজার স্থিতিশীল থাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি প্রত্যাশা করেছেন তারা।

বাজারে প্রতি কেজি পোল্ট্রি মুরগির দাম ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। এছাড়া দেশি মুরগি ৪৩০ টাকা, সোনালী ২৪০ টাকা, সাদা লেয়ার ১৬০ টাকা, লাল লেয়ার ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গরুর মাংস ৫৪০ থেকে ৫৫০ টাকা ও খাশির মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা আব্দুল আলীম।

তিনি বলেন, মাংসের দাম দীর্ঘ সময় ধরে একই রয়েছে। খুব একটা বাড়েনি। আগামী রমজানে চাহিদা বৃদ্ধি পেলে দাম বাড়তে পারে। কারন ভারতীয় গরু আসা বন্ধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে রমজানে একটু বাড়তে পারে। তবে সেটাও খুব বেশি হবে না।

এদিকে, মাছের বাজারেও নেই উত্তাপ। বিক্রেতা নজরুল ইসলাম বলেন, লকডানের কারনে মানুষ বাজারে আসছেন না। শহরে ছাত্র-ছাত্রীও নেই। বাজারে যদি লোক না আসে তাহলে বিক্রি হবে কিভাবে? সকাল থেকে মাছ নিয়ে বসে আছি। খুব একটা বিক্রি নেই।

মাছ বিক্রেতারা জানান, রকমভেদে প্রতি কেজি রুই ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, মৃগেল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, কাতল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ টাকা, পাবদা ৩০০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০ টাকা, ইলিশ ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, পেঁয়াজের দাম কয়েক টাকা বাড়লে কাঁচাবাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৪ টাকা, করলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ২০ টাকা, প্রতি কেজি গাজর ১৫ থেকে ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০ থেকে ৩০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ১৫ টাকা, আদা ৬০ টাকা ও রসুন ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তেলের মধ্যে সয়াবিনের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন ১২০ টাকা লিটার ও বোতলজাত ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য মসলাজাত পণ্যের দাম।

চালের বাজারে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতি কেজি আটাশ ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা, মিনিকেট ৬০ থেকে ৬২ টাকা, জিরাশাল ৬০ থেকে ৬২ টাকা, বাসমতি ৬৮ টাকা, পায়জাম ৬৫ টাকা, নাজিরশাল ৬৫ টাকা, কাটারিভোগ সেদ্ধ ৭৫ টাকা, কাজল লতা ৬৫ টাকা, কালজিরা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিনিগুড়া ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, রাঁধুনি ৭০ টাকা, কাটারি আতপ ও পায়জাম আতপ ৬৫ টাকা, বালাম ৬৫ টাকা ও রনজিত ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর সাহেববাজারের এ.পি. চাউল ভান্ডারে’র স্বত্বাধিকারী অশোক প্রসাদ বলেন, কোন ধরনের চালের দাম বাড়েনি। গত দু’মাস থেকে প্রায়ই একই দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। রমজানেও বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কারন রমজানে চালের চাহিদা আরও কমে যায়। ফলে চাহিদা কমলে দাম বাড়ার কথা না।

বাজার স্থিতিশীল থাকায় খুব একটা অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি ক্রেতাদের। তবে তাদের চাওয়া, রমজানে যেন বাজার অস্থির না হয়, সেদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রত্যাশা করেছেন তারা।

সাহেববাজারে কথা হয় ক্রেতা শিরিন সুলতানার সাথে। তিনি বলেন, দাম খুব একটা বাড়েনি। তবে একেবারেই যে কম সেটাও বলা চলেনা। এখন কম থাকলেও দেখা যায়, রমজানের মধ্যে দাম বেড়ে যায়। সেজন্য প্রশাসনের কাছে আমাদের চাওয়া, রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা যেন নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রাখেন।

  • 36
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে