টিসিবির দোকানে ইচ্ছেমতো পণ্য বিক্রি করছেন ডিলাররা

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২১; সময়: ১১:২৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলারদের ট্রাক থেকে এককভাবে কোন পণ্য খুচরা কিনতে পারছেন না গ্রাহকরা। একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্য প্যাকেজের মতো কিনতে হচ্ছে।

ব্যবসার সুবিধায় ডিলারেরা ইচ্ছেমতো পণ্য বিক্রি করছেন। বেশ কিছু দিন ধরেই এমন নিয়ম চলছে। এতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নিম্ন আয়ের ক্রেতারা। অথচ ‘প্যাকেজ’ করে পণ্য বিক্রির কোন নিয়ম নেই। টিসিবি কর্মকর্তা মৌখিকভাবে এ ব্যাপারে ডিলারদের সতর্ক করলেও কোন লাভ হচ্ছে না।

টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, রাজশাহী মহানগরীতে এখন সাতটি পয়েন্টে ডিলারদের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১৭ মার্চ থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন শুধু চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল এবং আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। চিনি প্রতিকেজি ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ৫৫ টাকা, পেঁয়াজ ২০ টাকা এবং সয়াবিন তেল ১০০ টাকা লিটারে বিক্রি করা হচ্ছে।

প্রতিটি ট্রাকে এক হাজার কেজি চিনি, ৭৫০ কেজি মসুর ডাল এবং এক হাজার লিটার সয়াবিন তেল দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ৩০০ কেজি করে দেয়া হচ্ছে পেঁয়াজ। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত এগুলো খোলাবাজারে বিক্রি করা হবে। এরপর রমজানের আগে আবার নতুন পণ্যসামগ্রী যুক্ত করে বিক্রি করা হবে।

নগরীর তিনটি পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই প্যাকেজ করে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ শুধু একটি বা দুটি পণ্য নিতে চাইলে তাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। নগরীর আমচত্বর এলাকায় টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনেই একটি ট্রাক পণ্য বিক্রি করে। এখানে ডাল, তেল ও চিনি কিনতে পবা উপজেলার ভুগরইল পশ্চিমপাড়া গ্রাম থেকে আসেন গৃহবধূ দুলালী বেগম।

তিনি জানালেন, তার বাড়ি থেকে এখানে আসা-যাওয়ার অটোরিকশা ভাড়া ৩০ টাকা। বাজারের চেয়ে কমমূল্যে পণ্য পাওয়া বলে এখানে এসেছেন। কিন্তু পেঁয়াজ কেনার টাকা তার কাছে নেই। পেঁয়াজ নিতে না চাওয়ায় তাকে লাইন থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তাকে অন্য তিনটি পণ্য দেয়া হয়নি। বিক্রয়কর্মী জানিয়েছেন, সবই নিতে হবে।

এখানে সকাল ১০টায় টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হয়। যেখানে ট্রাক থেমে থাকে, সেখানে দুলালী বেগমসহ অন্যরা সকাল ৮টা থেকেই বসে থাকেন। ইট, পানির বোতল ও ব্যাগ রেখে তারা লাইন করে রাখেন। ট্রাক এসে ভিড়লেই তারা সেখানে দাঁড়ান। কড়া রোদের নিচে দাঁড়িয়ে থেকে তারা পণ্য সংগ্রহ করেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন নতুন করে বাড়লেও বুধবার ক্রেতাদের এই লাইনে শারীরিক কোন দূরত্ব দেখা যায়নি। গায়ের সাথে গা লাগিয়ে তারা দাঁড়িয়ে ছিলেন। দু’একজন ছাড়া কারও মুখে মাস্কও দেখা যায়নি। মাস্ক ছিল না বিক্রয়কর্মীদের মুখেও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার আজিম শেখ বলেন, এখন তো সবকিছুই স্বাভাবিকের মতো চলছে। কোথাও আর সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। প্যাকেজ ছাড়া পণ্য বিক্রি না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, যারা শুধু একটা-দুইটা পণ্য নেবে তাদের সবার শেষে দেয়া হবে বলে জানানো হচ্ছে। অপেক্ষা করতে হবে।

টিসিবির আঞ্চলিক কার্যলয়ের প্রধান রবিউল মোর্শেদ বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করার কোন সুযোগ নেই। যার যেটা প্রয়োজন তিনি সেটা কিনবেন। প্যাকেজ করে দেয়া যাবে না। কেউ এ ধরনের কাজ যেন না করেন সে ব্যাপারে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তারপরও তারা এমনটি করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

ট্রাকের সামনে সামাজিক দূরত্ব না থাকার বিষয়ে রবিউল মোর্শেদ বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়েও আমাদের নির্দেশনা আছে। আমরা ডিলারদের কিছু টায়ার কিনে ট্রাকের সামনে রাখতে বলেছি। তাহলে টায়ারের বৃত্তের মাঝেই ক্রেতারা দাঁড়াবেন। এতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি বলেন, ক্রেতারা মাস্ক না পরলে পণ্য দেয়া হবে না। একইভাবে বিক্রয়কর্মীদেরও মাস্ক পরতে হবে। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে এসব নিশ্চিত করা হবে।

  • 2.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে