দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২১; সময়: ৮:২৫ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভলপমেন্ট পলিসি (সিপিডি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের জন্য সুপারিশ করেছে। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলছে, জাতিসংঘের এই সুপারিশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক বিশাল অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে সুপারিশ পাওয়ার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরে এলডিসি শ্রেণিতে থাকা দেশটির অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসতে চলেছে।

ওয়ালস্ট্রিট প্রতিবেদনে প্রকাশ , দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের সাথে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ভিয়েতনামে উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপের মডেলের মিল পাওয়া গেছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে মধ্যম পর্যায়ে নিয়ে যেতে রপ্তানিমুখী উন্নয়নের ইতিহাসই সবথেকে সফল।

গত দশকে, ভারত এবং পাকিস্তানের রপ্তানির হার ধীরে ধীরে কমে আসে। অন্যদিকে, ডলারের হিসাবে, বাড়তে থাকা পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রপ্তানি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ২০১১ সালে, বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি মার্কিন ডলারের নিরিখে ভারতের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম ছিল। তবে, গত বছর মহামারির কারণে ভারতীয় অর্থনীতির ধসে, বাংলাদেশ ভারতকে ধরে ফেলে। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ধারণা অনুযায়ী, এই বৈষম্য কম-বেশি একই থাকবে।

তবে, বাংলাদেশের উন্নয়ন মডেলের পক্ষে আরও কিছু কারণ কাজ করছে। যেমন- সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ জনগোষ্ঠী, প্রতিযোগিতামূলক বেতন নির্ধারণে অন্যদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ইত্যাদি। এছাড়াও, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধমান নারী শ্রমশক্তির দিক থেকে দেশটি এগিয়ে আছে।

তবে, এখানে কিছু সম্ভাব্য বাধাও রয়েছে। যেমন, ভিয়েতনাম কিংবা কম্বোডিয়ার চাইতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেশ কম। গত দশ বছরে ভিয়েতনামে রপ্তানি বৃদ্ধির হার তিনগুণেরও বেশি। অন্যদিকে, কম্বোডিয়াতেও দশ বছরে রপ্তানি হার দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের রপ্তানি খাত ২০০০ সাল বা শূন্য দশকের শুরুতে বাড়তে থাকলেও, পরবর্তীতে স্থবির হয়ে পড়ে। সুতরাং, চলমান রপ্তানি বৃদ্ধির হার সুনিশ্চিত কিছু নয়।

ভিয়েতনামের মতো, বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ হওয়া উচিত উৎপাদন এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে উচ্চমানের দিকে ধাবিত হওয়া। দেশটির রপ্তানি খাত মাত্রাতিরিক্তভাবে পোশাক উৎপাদন নির্ভর। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রোথ ল্যাব অনুসারে, ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি বা অর্থনৈতিক সক্ষমতার সূচকে ১৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৮ তম। ১৯৯৫ সালের তুলনায় নেমে এসেছে বাংলাদেশের অবস্থান।

ভারতের মতো বাংলাদেশও এশিয়ার প্রধান বাণিজ্য জোটগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। দেশটি অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস (আসিয়ান), রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) কিংবা, কমপ্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রোগ্রেসিভ ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপের (সিপিটিপিপি) সদস্য নয়। রপ্তানিমুখী উৎপাদনের বহুমুখীকরণে দেশটিকে আন্তঃএশীয় সরবরাহে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে, পূর্বাঞ্চলের প্রতিবেশিদের সাথেও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।

প্রতিবন্ধকতা থাকলেও, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ সম্ভবত দেশটির ভবিষ্যত অগ্রগতিরই নিদর্শন। পাশপাশি, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশি দেশগুলো যারা ভিন্ন পন্থা অনুসরণ করছে, তাদের জন্য বিষয়টি একটি সতর্কবার্তা।

  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে