সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২০; সময়: ৬:৫৩ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় জোয়ার এবং দ্রুত ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চিয়তায় সার্বিক অর্থনীতির উত্তরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতেও মহামারীর নতুন এই পরিস্থিতি মন্দ প্রভাব ফেলবে, এমন আশঙ্কা করছে আর্থিকখাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

গত মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক প্রতিবেদনে এমন পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক গতি ধরে রাখা এবং সার্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে।

“সঠিক নীতি সহায়তা মিললে সদ্য সমাপ্ত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মহামারীর অভিঘাত কাটিয়ে ওঠার যে চাঞ্চল্য দেখা গেছে, তা আগামী প্রান্তিকগুলোতেও দেখা যাবে। তবে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় জোয়ার, ভ্যাকসিন প্রাপ্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা আর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন এবং বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতির উত্তরণের কারণে নিকট ও মধ্যবর্তী মেয়াদে জাতীয় প্রবৃদ্ধি প্রভাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে,” প্রতিবেদনে বলা হয়।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, “প্রবৃদ্ধির ঊর্দ্ধগতি এবং সার্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে প্রণোদনা প্যাকেজগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং সতর্ক নজরদারি প্রয়োজন,” বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে।

শীতের আসার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলছে সম্প্রতি আবিষ্কৃত সার্স কোভ-২ জীবাণুর নতুন এক অভিযোজিত ধরন। ফলে আবারও বিশ্বব্যাপী বন্ধ হয়ে যাওয়া শুরু করছে আকাশপথে ভ্রমণ, যার প্রভাবে বিগত কয়েক মাসে কিছুটা চাঙ্গাভাবে ফেরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি আবার হ্রাস পাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নিয়ামক সংস্থাটি আরও বলেছে, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোভিড-১৯ মহামারী কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা বাড়তে থাকে। এসময় শিল্পখাতেও দেখা দেয় উত্থান। সঙ্গে সহনশীল কৃষিখাতের সহায়তা যুক্ত হয় এবং পরিষেবা খাতও তুলনামূলক ভালো করেছে।

আলোচিত সময়ে, বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন গতির উত্থান দেখা দেয়, যা রপ্তানি বাজারে ক্রমশ শক্তিশালী হওয়া চাহিদাকে নির্দেশ করছিল। চাকরি ও পরিষেবা বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাংক ঋণ বাড়ার ফলে আশাব্যঞ্জক এবং সন্তোষজনক পারফরম্যান্স লক্ষ্য করা গেছে। ভোক্তাব্যয় এবং বন্দর নিয়ে পণ্য চালানের পরিমাণ বাড়াও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

এছাড়া, দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সহনশীল অবস্থা তুলে ধরেছে কৃষিখাত। কৃষিজ পণ্য বিপণনে মহামারী সৃষ্ট সরবরাহ চক্রের বাঁধা-বিপত্তিও এসময় অনেকটাই হ্রাস পায়।

পাশাপাশি প্রবাসী আয় প্রবাহের শক্তিশালী প্রবণতা, আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সরকারি খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি স্থানীয় চাহিদা বাড়ার পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে