বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২০; সময়: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার সাধারণ ছুটি ষোষণা করেছে। বন্ধ রয়েছে দেশের ছোট-বড় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সবকিছু বন্ধ থাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন। আয়ের পথ না থাকায় বিকল্প ব্যবসা খুঁজছেন তারা।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের মুদি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিকল্প আয়ের কোনও পথ এই মুহূর্তে খোলা নেই। কারণ সবকিছু বন্ধ। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া কারোরই কিছু করার নেই। তারা বলছেন, আগামী মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটি। সেই পর্যন্ত অনেক লম্বা সময়। অনেকে এর জন্য আগাম খাদ্য মজুত করেছেন। কিন্তু সাধারণ ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত অনেকেই সমস্যায় পড়বেন। তাই এই সময়ে সরকারি সহায়তার কথাও বলছেন কেউ কেউ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বহুদিন পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসায়ীকে সামনে কঠিন সময় মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে যারা দোকান এবং দৈনন্দিন আয়ের ব্যবসার সাথে জড়িত, তারা সমস্যায় পড়তে যাচ্ছেন বেশি।

শ্যামলীর মুদি দোকানদার আলতাফ হোসেন বলেন, করোনা আতঙ্কে গত সপ্তাহের প্রথম দিকে মানুষ প্রচুর কেনাকাটা করে। এই সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিনে মানুষ মজুত করেছে। সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর রাজধানী থেকে অনেকেই দেশের বাড়ি চলে গেছেন। তাই বর্তমানে বিক্রি কম। তারচেয়ে বড় কথা ডিস্ট্রিবিউটর চেইন ভেঙে পড়ায় দোকানে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় দ্রব্য এখন নেই। এই অবস্থায় ব্যবসা চালু রাখাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, আগামী সাত দিন এই অবস্থা চলবে। অর্থাৎ সাধারণ ছুটি চলাকালীন সময়ে দোকান হয়তো পুরোপুরি চালু রাখা যাবে না মালামাল শর্টেজের কারণে।

শ্যামলীর কাজী অফিস সংলগ্ন বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম বলেন, ২৪ তারিখে আমার দোকানের সব মুরগি বিক্রি শেষ। নতুন করে মুরগি তোলা যাচ্ছে না। প্রথমত মুরগির চালান বন্ধ, দ্বিতীয়ত এই সময় ক্রেতাও নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, খুব সহসাই মুরগির ব্যবসা স্বাভাবিক নাও হতে পারে। ২৪ তারিখে সর্বশেষ বয়লার মুরগি ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। সাধারণ ছুটি এবং রমজান মাসকে সামনে রেখে রেখে আগামীতে মুরগির দাম বেড়ে যেতে পারে বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে, সাধারণ ছুটির সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান চালু রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। কিন্তু দোকানদাররা বলছেন, বিভিন্ন কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে আসছেন না। তাই বিভিন্ন দরকারি পণ্য দোকানে নেই এই অবস্থায় কবে নাগাদ আবার ব্যবসা সচল হবে—এ নিয়ে তারা দ্বিধায় আছেন।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, চাহিদার বিপরীতে যোগান না থাকলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক কাঠামো নষ্ট হয়, তেমনি যোগানের বিপরিত চাহিদা থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দুটো সার্কেলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সাময়িকভাবে ক্ষুদ্র এবং মাঝারিমুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সমস্যা সৃষ্টি হবে। তবে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অবশ্যই বিষয়টি মাথায় রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করি।

উপরে