কুষ্টিয়ায় ট্রিপল হত্যায় ৩ জনের আমৃত্যু ও ৮ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২২; সময়: ৪:২৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : দীর্ঘ ১৩ বছর আগের কুষ্টিয়ার একটি আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলায় ৩ আসামীর আমৃত্যু, ৮ আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়।

একই সাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার ১১ আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের অনুপুস্থিতিতেই কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় প্রদান করেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন চরমপন্থি বাহিনীর সক্রিয় সদস্য।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৯ আগষ্ট গভীর রাতে সদর উপজেলার ভবানীপুরের আকবর আলীর ছেলে কাউয়ুম, আইউব আলী এবং সামসুজ্জামানসহ তিনজনের মাথা কেটে কুষ্টিয়া শহরের গণপূর্ত অফিসের গেটের সামনে ২ জনের ও ইবি থানা গেটের সামনে আরো ১ জনের মাথা ঝুলিয়ে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা।

পরে পুলিশ এসে ওই তিনজনের কাটা মাথা উদ্ধার করে এবং ইবি থানার সোনাইডাঙ্গা গ্রাম থেকে মস্তকবিহীন ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং তাদের শনাক্ত করে।

ওই ঘটনায় নিহত কাইয়ুমের ভাই আব্দুল হাই বাদী হয়ে ১০ আগষ্ট কুষ্টিয়া মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সেই মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে দীর্ঘ শুনানী শেষে মঙ্গলবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী রায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এটি শুধু কুষ্টিয়া জেলা নয় সারা দেশব্যাপী একটি আলোচিত হত্যাকান্ড ছিল।

টেন্ডারবাজী এবং টেন্ডারের দখল নেওয়া জন্যই মূলত চরমপন্থি সন্ত্রাসীরা এই হত্যাকান্ড সংগঠিত করে। এই মামলায় ৩ আসামীর আমৃত্যু এবং ৮আসামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা সবাই পলাতক। তবে দীর্ঘদিন পর রায় ঘোষণা হলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে