তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড : আরো একটি বছর পার

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২১; সময়: ১:৪০ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দীর্ঘ নয় বছর আগে ঠিক আজকের দিনে আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন শ্রমিক নিহত হয়।

ভয়াবহ ওই ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানার একটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়।

ঘটনার তিন বছর পর ২০১৫ সালে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ। তবে বিচারে তেমন কোন অগ্রগতি নেই। গত ছয় বছরে মাত্র ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। যার ফলে গত নয় বছরেও এ মামলার বিচার কাজ শেষ হয়নি।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন আছে। এ মামলাটিতে মোট ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এরপর থেকে এ পর্যন্ত আর কোন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জন শ্রমিক নিহত হয়। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক একেএম মহসিনুজ্জামান খান আদালতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, শামীম, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর ও শহীদুজ্জামান দুলাল।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, কারখানা ভবনটি ইমারত নির্মাণ আইন মেনে করা হয়নি। শ্রমিকদের বের হওয়ার জন্য ভবনটিতে জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। তিনটি সিঁড়ির মধ্যে দুটি নিচতলার গুদামের ভেতরে এসে শেষ হয়েছে।

ওই গুদামে আগুন লাগার পর শ্রমিকেরা বের হতে চাইলে কারাখানার ম্যানেজার শ্রমিকদের বাধা দিয়ে বলেন, আগুন লাগেনি। অগ্নিনির্বাপণের মহড়া চলছে। তিনি বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেন। ফলে শ্রমিকেরা নিচে নামতে পারেননি।

মালিকের অবহেলাজনিত হত্যা ও নরহত্যার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ করে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৪৩৬, ৩০৪, ৩০৪-ক ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

তাজরীন ফ্যাশনের মালিক দেলোয়ারের আইনজীবী এটি এম গোলাম গাউস বলেন, ‘সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলাটি গতি পাচ্ছে না। চলতি বছরের ফ্রেব্রুয়ারি মাসে একজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য রয়েছে।

আমরা চাই মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়। ন্যায়-অন্যায় আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমরা অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে আছি। রাষ্ট্রপক্ষের উচিত মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে