একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা: আসামি রায়হানুরের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১; সময়: ৫:০৯ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বড়ভাই, ভাবী, ভাতিজা ও ভাইজিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায়হানুর রহমান।

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পরিবারের বড়ভাই, ভাবী, ভাতিজা ও ভাইজিকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আসামি রায়হানুর রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।

একই আদেশে আসামিকে ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিলের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রায়হানুর রহমান (৩৬) সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিষা গ্রামের ডা. শাহাজাহান আলীর ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে বড় ভাই মো. শাহীনুর রহমান(৪০) ভাবী সাবিনা খাতুন(৩০), তাদের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম হোসেন মাহী (১০) ও মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাসমিন সুলতানাকে (৮) ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করেন রায়হানুর রহমান। পরদিন ১৫ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে হাত ও পা বেঁধে তাদেরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শাহীনুরের শাশুড়ি ময়না খাতুন বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে থানায় ১৫ অক্টোবর হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত শাখার (সিআইডি) সাতক্ষীরা অফিসের পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শাহীনুরের ভাই রায়হানুর রহমান, একই গ্রামের রাজ্জাক দালাল, আব্দুল মালেক ও ধানঘরা গ্রামের আসাদুল সরদারকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারকৃত রায়হানুরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গত ২১ অক্টোবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের কাছে একাই হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়হানুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে ৩২৮ ও ৩০২ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গত ১৪ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার ১৭ জন সাক্ষী ও আসামিপক্ষে একজন সাফাই সাক্ষী দেন। নিহত পরিবারে বেঁচে থাকা একমাত্র শিশু মারিয়া বর্তমানে হেলাতলা ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুনের কাছে বড় হচ্ছে। সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পিপি আব্দুল লতিফ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ১১ মাস পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে বলে তিনি আশাবাদী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এসএম হায়দার আলী বলেন, মামলার পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়ার পর পর্যালোচনা শেষে এ রায় এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে