বিচ্ছেদের পর সন্তান নিয়ে বাড়ছে আইনি জটিলতা

প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২১; সময়: ১০:৫০ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বিচ্ছেদের পর সন্তান নিয়ে বাড়ছে আইনি জটিলতা। এতে ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশুরা। আইনজীবীদের পরামর্শ-বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের আগেই এ নিয়ে সুরাহা হওয়া উচিত।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন- বিচ্ছেদেই প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপর। এরপর আবার সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে সামাজিকীকরণে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে। পারিবারিক নানা টানাপোড়েনে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কেউ নিতেই পারেন। দুজনের আলাদা থাকার এ প্রক্রিয়া বেশির ভাগ সময়ই হয় না সমঝোতার ভিত্তিতে। শুরু হয় কলহ। যার ৯০ শতাংশই গড়ায় আদালতে। আর যদি সন্তান থাকে তা নিয়ে শুরু হয় নির্মম আইনি লড়াই। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা।

সন্তান নিয়ে জাপান-বাংলাদেশের দুই নাগরিকের আইনি যুদ্ধের সঙ্গে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের দুই নাগরিক দম্পত্তির সন্তান ইস্যু। দুটি ক্ষেত্রেই সন্তানরা কার কাছে থাকবে তা নিয়ে টানাহেঁচড়া করতে দেখা গেছে। আইনজীবীরা বলছেন-সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও এসব বিষয়ে দুজনকেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। বিচ্ছেদের আগে সন্তানরা কার কাছে থাকবে তারও ফয়সালা হওয়া উচিত।

মানবাধিকার সংগঠনের আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, ছাড় দেওয়ার মনমানসিকতা নেই আমাদের নতুন যুগের লোকজনের মধ্যে। আমি কয়েক দিন আগে একজন বলেছি, তুমি একে ছেড়ে (তালাক) দিয়ে ভালো থাকবে এটা হতে পারে না। দ্বিতীয় বিয়ে কখনো ভালো বিয়ে হতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাবরিনা জেরিন বলেন, এটা আসলে লিগ্যাল সলিউশন থেকে বাস্তবিক সলিউশন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরাই। শিশুরা তো বুঝতেও পারে না, তারা কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে, কি করবে। এটা যদি স্থায়ী করা যেত তাহলে সুবিধা হতো। আসলে কার কাছে থাকবে এটা মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ভেরি করে। আসলে কোর্ট ছাড়া নির্ণয় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

সমাজবিজ্ঞানী বলছেন- স্বামী-স্ত্রীর কলহের বলি হয় সন্তানরা। প্রভাব পড়ে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াসহ মনসতত্ত্বে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ ফেরদৌস বলেন, এসব শিশুদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা বোধ ভর করে। সে সমাজ থেকে, পরিবার ও রাষ্ট্র থেকে সমাজ ও তার সংস্কৃতি থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিয়েবিচ্ছেদের হার বেড়েছে। বেড়েছে সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে মামলার সংখ্যা। গত বছর পারিবারিক আদালতে মামলা হয়েছে সাড়ে আট হাজার। এ বছর এ সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন আইনজীবীরা

  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে