তালাক দেওয়ায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত, সাবেক স্বামী আটক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২১; সময়: ১০:৪৩ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : তালাক দেওয়ার জেরে জামালপুরে নারীকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করেছে সাবেক স্বামী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহীনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইয়াসমিনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ছে। শহরের তামালতলা এলাকায় শনিবার (২৮ আগস্ট) এ ঘটনা ঘটে।

আহত সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার জোকাকুঁড়া গ্রামে। সে সালেহ আহম্মেদের মেয়ে। সাবিনা জামালপুরের একটি বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জামালপুর শহরের পাঁচ রাস্তা এলাকায় একটি মেসে থাকতেন।

আটক সাবেক স্বামী মো. শাহীন আলম (২১)। তিনি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার গুরু চরন দ্ধু নাই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, শাহীন আলমের সঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিনের নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে সাড়ে তিন বছর আগে বিয়ে হয়। পারিবারিক সম্পর্ক খারাপ হলে আড়াই মাস আগে তাদের তালাক হয়। তালাকের পর সাবিনা জামালপুর শহরে থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করতেন।

শনিবার বিকেলে শিক্ষার্থী ইয়াসমিন পরীক্ষা শেষে এক সহপাঠীর সঙ্গে অটোরিকশা করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে গতিরোধ করে কথা বলতে চান সাবেক স্বামী শাহীন। কিন্তু কথা বলতে রাজি না হলে ধারালো ছুরি দিয়ে অতর্কিত আঘাত করে ইয়াসমিনকে। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে আবারো তাকে জখম করা হয়। এ সময় পালিয়ে যাওযার চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন ধরে ফেলে শাহীনকে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।

পরে স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আল ইমরান জানান, ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে ৪ থেকে ৫টি ছুরিকাঘাতের চিহৃ পাওয়া গেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান জানান, ওই নারীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আহতের শরীরে বেশ কয়েক জায়গায় আঘাত করা হয়েছে। ঘাতককে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে