মেজর সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২১; সময়: ৫:১২ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ‘ওসি প্রদীপের নির্দেশেই ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীর গুলিতে সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হয়। ঘটনার সরাসরি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জেনে ঘটনার পাঁচ দিন পর ২০২০ সালের ৫ আগস্ট আমি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করি আদালতে।’

আজ সোমবার অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আদালতকে এ কথা বলেন মামলার বাদী সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসি। আজ সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হয় এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ, চলবে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত।

এই তিন দিনে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৫ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত থাকতে সমন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি ফরিদুল আলম। ফরিদুল আলম বলেন, ‘আজ সকালে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাঈলের আদালতে তিন দিনের এই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।’

মামলায় সাক্ষ্য দিতে ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে প্রথম দফায় তিন দিনে ১৫ জনকে উপস্থিত থাকতে সমন দেওয়া হয়। মামলার বাদী ও মেজর (অব.) সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌসের সাক্ষ্য প্রদানের মধ্য দিয়ে বিচার কাজ শুরু হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফার ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে মামলার বাদী ছাড়াও আদালতে হাজিরা দেন শামলাপুর এলাকার মো. আবদুল হামিদ ও মোহাম্মদ ইউনুস। আগামীকাল তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।

মামলার মোট ১৫ জন আসামির সবাইকেই কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়। আদালতে তাদের উপস্থিতিতেই সাক্ষ্য গ্রহণ, বাদী-বিবাদীর আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক ও জেরা হয়।

এর আগে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ধার্য থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পিছিয়ে যায়। গত ১৬ আগস্ট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ২৩, ২৪ ও ২৫ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করে আদেশ দেন। গত বছর ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করে। মেজর (অব.) সিনহা নিহতের ছয় দিন পর সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও সাবেক ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার অভিযোগে টেকনাফ থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এক পর্যায়ে পলাতক টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সর্বশেষ গত ২৪ জুন মামলার একমাত্র পলাতক থাকা আসামি টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারী সাবেক এএসআই সাগর দেব ছাড়া র‌্যাব ১৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের মধ্যে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া বাকী ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে গত বছর ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব ১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার আসামিরা হলেন— বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন, মোহাম্মদ মোস্তফা, এপিবিএনের তিন সদস্য এসআই মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজীব, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী নুরুল আমিন, নেজাম উদ্দিন, মোহাম্মদ আয়াজ, টেকনাফ থানার সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাবেক এএসআই সাগর দেব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে