গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যায় সাবেক স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২১; সময়: ৩:৩৫ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কুমিল্লায় আয়েশা আক্তার নামে গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তার সাবেক স্বামীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আবদুল কাদের (৩৭)।

বুধবার দুপুরে ওই রায় ঘোষণা করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক রোজিনা খান। তবে রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না আসামি আবদুল কাদের। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আসামি আবদুল কাদের জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। আর হত্যাকাণ্ডের শিকার আয়েশা একই উপজেলার রাজামেহার গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন। এ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন টিপু।

আদালত ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে আবদুল কাদেরের সঙ্গে আয়েশা আক্তারের পারিবারিক বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক কোলাহসহ নানা বিরোধের জের ধরে ২০১০ সালে তাদের ডিভোর্স হয়। এর পর থেকে আয়েশা নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টে চাকরি শুরু করেন। ২০১৩ সালে ঈদে বাবার বাড়িতে আসেন তিনি।

পরে তার মা মাজেদা বেগমসহ নানার বাড়ি একই উপজেলার গুনাইঘর গ্রামে বেড়াতে যায় তারা। সেখানে থেকে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট তারা নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।

ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মা-মেয়ে জেলার মুরাদনগর উপজেলার উরিশ্বর বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছলে আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা আবদুল কাদের ছুরি নিয়ে হঠাৎ হামলা করে আয়েশার ওপর। একপর্যায়ে তার বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে সে।

এ সময় মা মাজেদা বেগম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে কাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এর পর হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয় আয়েশার। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই নিহতের বাবা আবুল হোসেন মুরাদনগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তদন্ত শেষে এক আসামি কাদেরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। এর পর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মামলার ১৩ সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

সর্বশেষ দীর্ঘ প্রায় সাড়ে সাত বছর পর বুধবার দুপুরে ওই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

  • 6
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে