নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন মামলার জটের শেষ কোথায়?

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০; সময়: ১০:১৮ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আইন বলছে ৬ মাসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে। কিন্তু মামলা ঝুলছে বছরের পর বছর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাক্ষী এমনকি মামলার বাদীও নিখোঁজ হয়ে যান। কিন্তু মামলা চলতে থাকে আদালতে।

এমন অবস্থায় সমন জারি করেও সাক্ষী মেলা ভার হয়ে যায়। ঢাকায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বেশ কিছু মামলা পর্যলোচনা করে দেখা গেছে এই চিত্র। সাবিনা পুঁথির ধারাবাহিক প্রতিবেদন।

২০০৩ সালে মিরপুরে এক গার্মেন্টস কর্মী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হোন। সেই ঘটনায় ৮ জনকে আসামী করে মেয়েটির ভাই পল্লবী থানায় মামলা করে। সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে ১৭ বছর ধরে সেই মামলা ঝুলছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী আকবর এ প্রসঙ্গে বলেন, চার্জসিট হয়েছে চার/পাঁচ জনের নামে। ভিকটিম হলফনামা নিয়ে গেছে কারা যে আমাকে ধর্ষণ করেছে আমি তাদেরকে চিনতে পারিনি। চার্জ হবার পর আর জীবনে সাক্ষী দিতে আসেনি।

ধর্ষণের এই মামলায় সমন জারি করেও সাক্ষী ও আসামিদের আদালতে হাজির করতে না পেরে গেলো ২৪ আগস্ট ৮ জন আসামী ও বাদীর নামে সমন জারি করে আদালত। মোহাম্মদ আলী আকবর এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ৮০ দিনের পর কি হবে সে বিষয়ে কিছু বলা নেই তাই বছরের পর বছর চলতে থাকে। সমন যদি ফিরে আসে তখন প্রসিকিউসন বুঝতে পারি যে এই সাক্ষীকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আদালতও মনে করে যে এই সাক্ষীকে আর পাওয়া যাবে না। তখন ২৬৫ এর এইচ ধারা মোতাবেক মামলা নথিভুক্ত করে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ওই আইনে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৫১ টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৫৪ হাজার ৬১৮ টি মামলা। বিচারাধীন রয়েছে ১ লাখ, ৬৮ হাজার ৩৯৩ টি মামলা। এসবের মধ্যে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন আছে ৩১ হাজার ৫৩৯ টি মামলা।

মামলা জটের ক্ষেত্রে স্বাক্ষীদের অনুপস্থিতিকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠে সরকারি কৌসুলীদেরও বিরুদ্ধেও। এ প্রসঙ্গে আইন সহায়তা কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী বলেন, তারা (আসামি) কিন্তু এক ধরণের চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। মিলমিশ করার চেষ্টা করে। এ সমস্ত নানবিধ কারণে কিন্তু সময় লাগে।

মামলার তদন্ত ঠিকঠাক না করা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। আবার স্বাক্ষী হাজির করতে পুলিশের ভুমিকা নিয়েও আছে প্রশ্ন। মানবাধিকার সংগঠন নারীপক্ষ গত বছররের এক জরীপে দেখিয়েছে – নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় ৯৮.৬৪ ভাগ আসামি খালাস পেয়ে যায়। সাজা হয় মাত্র ১.৩৬ ভাগ আসামির। স্বাক্ষীর অভাব,বিচারেরর ধীরগতি, বাদী ও আসামি পক্ষের আপস- মীমাংসা, তদন্তে গাফিলতির কারণে খালাস পেয়ে যাচ্ছেন এসব আসামী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন জানান, বিচারক শত চেষ্টা করেন সময় মতো মামলা নিস্পত্তি করার। সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় আসামি পক্ষের আইনজীবি, আসামি পক্ষ।

তবে মামলা জট কমাতে দ্রুত তদন্ত কাজ শেষ করতে আলাদা মনিটরিং সেল গঠনে হাইকোর্ট নির্দেশনা থাকলেও সেই সেলের কার্যক্রম নেই। নীনা গোস্বামী আরও বলেন, ডিলে হতে হতে এমন একটা অবস্থায় চলে যায় যে, মামলা আর শেষ হয় না। ঘটনা কিন্তু একটার পর একটা ঘটতে থাকে।

এদিকে, মামলার চাপ ও করোনার কারণে কয়েক মাস আদালত বন্ধ থাকার ফলে চলতি বছর মামলা জট আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • রানীনগরে চাকরি দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
  • কুষ্টিয়ায় চাচা হত্যার দায়ে ভাইপোর যাবজ্জীবন কারাদন্ড
  • রাজশাহীতে দণ্ডিত ২৩ আসামি থাকতে পারছেন বাড়িতে!
  • স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাড়িচালক মালেক ১৪ দিনের রিমান্ডে
  • বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর প্রধান সম্পাদকের জামিন আপিলেও বহাল
  • নাটোরে আ.লীগ নেতা হত্যায় ২ জনের ফাঁসি
  • সাবেক ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ আদালতের
  • আবরার হত্যা মামলা: প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি
  • সাহেদের অস্ত্র মামলার রায় ২৮ সেপ্টেম্বর
  • খালেদা জিয়ার ৪ মামলার কার্যক্রম স্থগিতাদেশ বহাল
  • তিতাসের ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী রিমান্ডে
  • রংপুরে দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার, হত্যা মামলা দায়ের
  • ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের এক বছরে ৩২ মামলায় ২৬ চার্জশিট
  • খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত
  • ডিআইজি মিজান ও দুদকের বাছিরের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ
  • উপরে