সংখ্যালঘুদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ ও হামলার বিরুদ্ধে রাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২২; সময়: ১:৫৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু শিক্ষকদের ওপর ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ ও হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

আজ বুধবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে সনাতনী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দের আয়োজনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংঘের সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ফারসি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী দীপু রায়ের সঞ্চালনায় মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ শিকদার বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সাথে যুক্ত ছিলাম। সেখানে আমি আমার শিক্ষার্থীদের সবসময় বলতাম অন্য ধর্মের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ পরিহার করে সহযোগী মনোভাব তৈরি করতে। এবং আমি দেখেছি আমার ছাত্ররা কেউ অন্য ধর্মের প্রতি কখনও খারাপ মন্তব্য করেনি ।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে। হৃদয় মন্ডলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হলো। তাছাড়া ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা হয় না। কোন অভিযোগ আসলে প্রথমে বিক্ষোভ মিছিল, তারপর হামলা চালানো হয়।

পরবর্তীতে দু একজনকে গ্রেফতার করলেও কয়েকদিনের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া হয়। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমাদের দাবি যারা এই কাজগুলো একের পর এক ঘটিয়ে চলেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । তাদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করা হোক। সংখ্যালঘুদের ওপর অতর্কিত হামলা বন্ধ করা হোক।

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান। তিনি বলেন,

বিজ্ঞান পড়াতে গিয়ে একজন শিক্ষককে কারাবরণ করতে হয়েছে তা দেশের শিক্ষক সমাজের জন্য লজ্জাজনক। হৃদয় মন্ডল শুধু বিজ্ঞানের ব্যাখা দিয়েছেন । কিন্তু তার শিক্ষাকে ধর্মীয় দিকে পরিচালিনা করে হয়রানি ও হামলা করা হলো ‌।

তিনি আরও বলেন , আমি নিজে একজন মুসলিম। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে অথচ পরিস্থিতি আজ ভিন্ন। ধর্ম নিয়ে রেষারেষি চলছেই দেশে । নওগায় স্কুল ড্রেস না পড়ে আসার কারণে শিক্ষিকার সামান্য শাসনকে ধর্মীয় দিকে পরিচালনা করে হামলা চালানো হলো। আমার মনে হয় এক সুযোগসন্ধানী মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী গোষ্ঠী এই কাজ সংঘটিত করছে । আমাদের তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সচেতন হতে হবে সকলকেই।

এছাড়াও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আমি যখন জন্মগ্রহণ করি তখন তো জানতাম না আমি কোন ধর্মের। আমি তো মানুষ হিসেবে এই জায়গায় বসবাস করতে এসেছি । আমি তো জন্মসূত্রে হিন্দু। কি দোষ আমার। আমাকে যদি জন্মের আগে বলতো তুমি কোন ধর্মে যেতে যাও এবং তখন আমি যদি হিন্দু বেছে নিতাম তাহলে আপনারা আমাকে দোষারোপ করতে পারতেন। কিন্তু আমি তো হিন্দু হয়েই জন্মগ্রহণ করেছি । এখানে কি দোষ করেছি আমি যে আপনারা বার বার হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের একটা পরিচয় ছিল আমারা বাঙালি। মুক্তিযুদ্ধ তো হিন্দু মুসলিম সবাই অংশ নিয়েছে তাহলে সংখ্যালঘুদের তাড়িয়ে দেওয়ার এতো প্রচেষ্টা কেন। আমাদের দাবি সরকার তথা রাষ্ট্রকে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মাথা চারা দিয়ে উঠা এই অপশক্তিগুলোকে দমন করতে হবে নাহলে এই দেশ নরকে পরিণত হবে।

এছাড়াও মানববন্ধনে আরো উপস্থিত বক্তব্য প্রদান করেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক শুভ্রা রানী চন্দ, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শফিকুন্নবী সামাদী, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ইসলাম খান প্রমুখ।

মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে