ওমিক্রন বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তে হাঁটবে রাবি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২২; সময়: ১২:১৮ pm |

রিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ সামলে উঠতে না উঠতেই তৃতীয় ঢেউয়ের কবলে পুরো বিশ্ব। বাংলাদেশে এখনও অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ না করলেও ইউরোপ ও আমেরিকার অঞ্চলের দেশগুলোর অবস্থা ভয়ঙ্কর রকমের খারাপ। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার তৃতীয় ঢেউ ওমিক্রনে সংক্রমিত মৃতের সংখ্যা।

প্রায় চুয়াল্লিশ হাজার শিক্ষার্থীতে পরিপূর্ণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওমিক্রন নিয়ে কি ভাবছে তা নিয়ে সরেজমিনে সাক্ষাৎ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আসিবুল হাসান জানান, ইতোমধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেশনজট নামক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে । ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তার চতুর্থ সেমিষ্টারে থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘ লকডাউনের কারণে এখনও সেকেন্ড সেমিস্টার টপকাতে পারেননি। এখন ওমিক্রন আতঙ্কে নতুন করে লকডাউন ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না বলে জানান তিনি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ফাহিম রেজা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় চুয়াল্লিশ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর আনাগোনা । এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর কথা ভেবে প্রশাসনকে অবশ্যই সচেতন ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে । আমরা ইতোমধ্যে করোনার ভয়াবহতা দেখেছি এবং ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট যেহেতু আরো বেশি ভয়াবহ তাই অবস্থা খারাপ হলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

করোনা মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার কতোটুকু প্রস্তুত এবং এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য সক্ষম কি না তা জানতে চাইলে মেডিকেলের প্রধান চিকিৎসক তবিবুর রহমান শেখ জানান, ওমিক্রম মোকাবেলায় মাস্ক,স্যানিটাইজার বিতরণসহ আগাম কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর ওমিক্রন শনাক্ত হয়নি তাই ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি খারাপ হলে হলগুলোতে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও নমুনা সংগ্রহ ও করোনা শনাক্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান মেডিকেলে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও তা রোগী রাখার উপযোগী নয়। হঠাৎ কোন রোগীর অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দিলে পরবর্তী ধাপের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন মেডিকেল ইউনিট মূলত করোনা রোগীর সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকা রাখবে। অর্থাৎ রোগীর অবস্থা দেখে তাকে উন্নত হাসপাতালে পাঠানো বা আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।

ওমিক্রন মোকাবেলায় আগাম কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. সুলতান উল ইসলাম বলেন, আমরা গত সপ্তাহ থেকেই বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি । বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবস্থা ভয়াবহ হলে করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় যেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে আবার সেরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখন থেকেই সচেতনতা বৃদ্ধি সহ লোকসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং সে ব্যাপারে রাবি কি ভাবছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেহেতু এখনও স্বাভাবিক, তাই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে ভাবছি না । আগামীতে অবস্থার অবনতি ঘটলে এবং সরকার থেকে সিন্ধান্ত আসলে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা বা বন্ধ রাখার ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্তের খবর প্রথম প্রকাশ হয়  ৯ ডিসেম্বর ৷  ৭ জানুয়ারির হিসাবমতে এখন দেশে ওমিক্রন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ২০ জন অতিক্রম করেছে। ইতোমধ্যে নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের আতঙ্কে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে