শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ নাকি খোলা, বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হলো

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২২; সময়: ১১:০২ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : মহামারি আকার ধারণ করা করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল রোববার (৯ জানুয়ারি) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, বর্তমানে যেভাবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় চলছে সেভাবেই চলবে।

তিনি বলেন, যেহেতু এখন সংক্রমণের হার ৬ শতাংশের বেশি, তাই বিশেষ বিবেচনায় রেখে এই ব্যবস্থাগুলো নিয়ে স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে চলছে সেভাবেই চলবে। তবে যদি কোনও কারণে সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করার বিষয়ে চিন্তা করা হবে।

ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ‘স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমরা বন্ধ করে দেই এবারও, তাহলে ইম্পেক্ট (প্রভাব) আবার অনেক বেশি। আবার খোলা রেখে যদি সংক্রমণ বেড়ে যায় তাহলেও সমস্যা।’

তিনি বলেন, ‘তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে যেভাবে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় চলছে, সেটা চলবে এবং খুব ঘনঘন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব, পুরোটাই নির্ভর করছে অবস্থার ওপর।’

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা প্রশ্নে ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, ‘এখন টিকাদান কর্মসূচি চলছে। একে আরও জোরদারকরণ এবং আরও কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে আমরা যেন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

রোববার রাত সাড়ে ৯টায় এই সভা শুরু হয়। ওমিক্রন পরিস্থিতি নিয়ে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করেন।

শিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব প্রমুখ। তবে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় শিক্ষামন্ত্রী প্রেস ব্রিফিং করে বৈঠকের সব সিদ্ধান্ত তুলে ধরবেন।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে গতকাল রোববার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যতক্ষণ সম্ভব ততক্ষণ সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।

দীপু মনি জানান, হুট করে নয়, বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে আমাদের মিটিং আছে। শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে।

সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে এসে কিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যায়, সে চেষ্টাই করছি আমরা। তবে এটাও ঠিক, যদি মনে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে সংক্রমণ বাড়বে, তখন আমরা বন্ধ করে দেব হয়তো।

তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষিত রেখে সংক্রমণ কীভাবে এড়াতে পারি। যারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে বা হয়ে যাচ্ছে তারা গুজব ছড়াচ্ছেন। সব সময়ই এমন গুজব ছড়ানো হয়। আপনারা গুজবে কান দেবেন না।

শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাক এই আশা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতেই হয়, তখন আমরা ঘোষণা দিয়ে বন্ধ করে দেবো। কিন্তু যতক্ষণ সে প্রয়োজন অনুভব না হবে, আমরা বন্ধ করব না। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাক।

তিনি বলেন, মহামারির সময় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাঁড়াতেই পারেনি। সে সময় ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া আরেকটি বাড়তি চাপ। যদিও ভিসি ছাড়া থাকতেই হবে, এছাড়া প্রতিষ্ঠান চলবে না।

আমরা বারবারই যেখানে যে অভাব আছে তা পূরণে তাগাদা দিচ্ছি। চেষ্টা করছি দ্রুত এ কাজ শেষ করার। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে আরও বেশি স্বদিচ্ছা কামনা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে