আল্টিমেটাম দিয়ে রাবি ছাত্রীদের আন্দোলন স্থগিত

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২১; সময়: ৫:০৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাবি : আগামী তিনদিনের মধ্যে যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনা করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলীর এমন আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রোকেয়া হলের ছাত্রীরা। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সান্ধ্য আইন পরিবর্তনসহ ১০ দফা দাবিতে তিন ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।

শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হল- হলের ওয়াইফাই সমস্যার সমাধান করতে হবে, ডাইনিং-ক্যান্টিনের খাবারের মান বাড়াতে হবে, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও গেস্ট থাকার অনুমতি দিতে হবে, স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষে দুই মাস হলে থাকার সুযোগ দিতে হবে, হলের খালা ও স্টাফদের ব্যবহার ভালো করতে হবে, হলের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, মশা-মাছি নিধনে ব্যবস্থা নিতে হবে, রিডিং রুমে শিক্ষার্থীদের পড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, গণরুমের জন্য গণকিচেনের ব্যবস্থার পাশাপাশি ফ্রিজের ব্যবস্থা করতে হবে।

আন্দোলন চলাকালে ঘটনাস্থলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী তাঁর প্রক্টরিয়াল বডি, রোকেয়া হল প্রাধ্যক্ষ জয়ন্তী রানী বসাক, হলের আবাসিক শিক্ষক এবং হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে আলোচনায় বসেন। আলোচনা শেষে প্রক্টর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে আগামী তিনদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানানোর আশ্বাস দেয়।

পরে প্রক্টরের আশ্বাসে তিনদিনের মধ্যে সকল দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় নির্ধারিত তিনদিনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দেন তাঁরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে আমাদের মা, বোন বেড়াতে আসলে হলে থাকতে দেওয়া হয় না। অন্য হলের কোনো বান্ধবী আমাদের হলে আসতে পারে না। সন্ধ্যার পর বাইরে যেতে চাইলে হাজারো জবাবদিহি করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি যেখানে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে সেখানে আমাদের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হলে ঢুকতে হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, হলের ডাইনিং ক্যান্টিনের খাবারের মান নিন্মমানের। অথচ নেয়া হয় চড়া দাম। এক প্লেট খিচুড়ির দাম ৩০টাকা, পরোটা ৮টাকা। যা অন্যান্য হলের তুলনায় বেশি। হলে ওয়াই-ফাইয়ের কোনো সুবিধা নেই।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর লিয়াকত আলী বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং এই সুবিধাগুলো তাদের পাওয়া উচিত। আমরা মনে করি সব সুবিধাগুলোই আছে। তবে সেগুলো যেন তাঁরা আরও ভালো অনুভব করে, আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচেষ্ট।

রোকেয়া হল প্রাধ্যক্ষ জয়ন্তী রানী বসাক বলেন, শিক্ষার্থীদের কিছু কিছু দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। প্রশাসন তিনদিনের মধ্যে এসব দাবি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমি আগামী মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আমাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে হলের শিক্ষার্থীদের জানাব।

উল্লেখ্য, গত ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচী করেন।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে