টয়লেটে পাওয়া গেল ১৬০০ কেজি বই

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২১; সময়: ১১:১৮ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে চরশৌলমারী বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পুরাতন বইগুলো টয়লেটে রাখা ছিল। টয়লেট ব্যবহারে অসুবিধা হওয়ায় প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বইগুলো বিক্রি করে দিয়েছেন। ৮ বছরের জমা হওয়া ১ হাজার ৬০০ কেজি সরকারি পাঠ্যবই বিক্রি করেছেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বই বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বই বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পান বলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন বইগুলো এক ব্যবসায়ীর দোকানে বিক্রি করেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। ২০ অক্টোবর রাতে প্রধান শিক্ষক মিজানুর মাধ্যমিক স্তরের ২০১৩ সাল থেকে ২০২১ সালের ১৬০০ কেজি (৪০ মণ) সরকারি বই কেজিপ্রতি ১৩ টাকা দরে চরশৌলমারী বাজারের আবুল কাসেম শিকদার নামের এক ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করেন।

এসব সরকারি বই বিক্রি করার কোনো অনুমতি কিংবা কোনো রেজুলেশন ছাড়াই তিনি বিক্রি করে দেন। প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে এবং ম্যানেজিং কমিটির অগোচরে বইগুলো বিক্রয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়টি ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত সাড়ে ৫ শতাধিক ছাত্রী রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ ও আব্দুর রহিমসহ অনেকেই জানায়, অবৈধভাবে বই বিক্রির ঘটনা এর আগেও এ বিদ্যালয়ে ঘটেছিল। আমরা শুনেছি এবারেও ১৬০০ কেজি সরকারি বই বিক্রি করেছেন তিনি। শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান তারা।

বই ক্রয়কারী ব্যবসায়ী আবুল কাশেম শিকদার বলেন, বইখাতাসহ এলাকায় বিভিন্ন ভাঙারি মালামাল আমি ক্রয় করে থাকি। কয়েকদিন আগে চর শৌলমারী বহুমুখী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমাকে ডেকে নিয়ে তার স্কুলের বইগুলো বিক্রি করে দেন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিন ব্যাপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের টয়লেট কক্ষে পুরাতন বইগুলো রাখা হয়েছিল। টয়লেট ব্যবহারের লক্ষ্যে বইগুলো রাখার অন্য কোনো জায়গা না থাকায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারকে বলে বইগুলো বিক্রি করে দিয়েছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম অনুমতি না নিয়ে বিক্রির ব্যাপারে বলেন, সরকারি বই বিক্রি করা আইনত অপরাধ। একাডেমিক সুপারভাইজের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিক্রির সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত রিপোর্ট ইউএনওর নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান জানান, সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। আগামী দুদিনের মধ্যে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে