রাবিতে হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা, ভাড়া মেসে শিক্ষার্থীদের দূর্ভোগ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১; সময়: ৫:০৫ pm |

 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন বিভাগের আটকে থাকা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ভাড়ায় মেস ও বাসা নিয়ে থাকছেন। সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা ও মালামাল চুরি যাওয়ার ঘটনাও।

এদিকে ক্যাম্পাস কবে খুলবে তা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রশাসন। ফলত হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তারা অবিলম্বে ক্যাম্পাস খোলার দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মাসে বেশ কয়েকটি বিভাগে ফরম ফিল আপ ও পরীক্ষার রুটিন দিয়েছে। ফলত শিক্ষার্থীরা তরিঘড়ি করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন মেস ও বাসা ভাড়া নিয়ে গাদাগাদি করে থাকছেন। চাপ বাড়ায় নানা অজুহাতে মেস মালিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

শুক্রবার ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জের ধরে মণ্ডলের মোড় এলাকায় রাকিবুল নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মেস মালিক সুজন মিয়া পলাতক রয়েছেন। এছাড়া গত সপ্তাহে কাজলা এলাকার লাকি ছাত্রাবাসে দুপুর বেলা মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, খুব কষ্ট করে মেসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে থাকছি, কিন্তু এখানে পড়াশোনারও পরিবেশটা নেই। এদিকে আমার মোবাইলও চুরি গেছে এই মেসে থেকে। প্রশাসন চাইলেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে দিতে পারতো, এত কষ্ট হতো না।

ইসলামিক স্টাডিজের শিক্ষার্থী মোহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, প্রশাসন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। কারণ এখনও প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। এখন ক্যাম্পাস খোলার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বায়ত্বশাসন প্রাকটিস করতে পারছে না। এদিকে হল বন্ধ রেখে বিভিন্ন বিভাগে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা নানা ক্রাইসেসের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত ক্যাম্পাস খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেয়া হোক।

এই বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান উল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশনার বাইরে আলাদা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের কিছু অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও দেখতে হয়। কারণ কোভিডের বিষয়টি তো আর স্থানীয় না। এদিকে দীর্ঘদিন হলগুলো বন্ধ থাকায় সেগুলো সংস্কারের প্রয়োজন। সেটার সময় লাগবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এগুলো সমাধানের।

 

  • 180
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে