অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শেষ হয়নি প্রস্তুতি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১; সময়: ১০:২৪ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। শহরাঞ্চলের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক স্কুল-কলেজে শুক্রবারও ধোয়ামোছার কাজ করতে দেখা গেছে। কোনো কোনো স্কুলের সামনে এখনও আগাছা ও জলাবদ্ধতা দেখা যায়।

বরিশাল বিভাগে তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। খুলনায় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আটটি বিদ্যালয়ের ক্লাস হবে পার্শ্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে। চট্টগ্রাম বিভাগে সাড়ে ১১ হাজার বিদ্যালয় পাঠদানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া যশোরে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত।

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আলফাজ উদ্দিন জানান, বিদ্যালয় খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। এখন রঙের কাজ চলছে। বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি ক্লাসরুমগুলো পাঠদান উপযোগী করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে কিছু জিনিস নষ্ট হয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে একটি আইসোলেশন কক্ষও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হবে। তারা যেন বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে অন্তত ২-৩ বার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং হাত ধুতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

রাজশাহী : মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী সরকারি পিএন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতর বেঞ্চ, চেয়ার ও টেবিলসহ ঘরের দেওয়াল ও মেঝে পরিষ্কার করা হয়েছে। সবকিছুই সাজানো-গোছানো। স্কুলটির মাঠ ও ফুলের বাগান আগাছামুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য বানানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বেসিন।

রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক) নাসির উদ্দিন বলেন, জেলায় উচ্চবিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৪৪টি। মহানগরীসহ জেলার বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাঠদানের উপযোগী করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরেও এ ব্যাপারে আমাদেরও নজরদারি থাকবে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্কুল খোলার ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শুরু করেছি। শুক্রবারও বেশ কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেছি। সবার প্রস্তুতি সন্তোষজনক।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১১ হাজার ৫৭৬টি সরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। চট্টগ্রামসহ ১১টি জেলায় রয়েছে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অধীনে চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলা মিলিয়ে ২ হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে চট্টগ্রামে।

এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৫ হাজার ৭২৯ জন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসের অধীনে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও উচ্চ বিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় ২ হাজার ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

যশোর, মনিরামপুর ও অভয়নগর : জেলার ২ হাজার ২২৮ সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা খোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শ্রেণিকক্ষ ও ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে জেলার ভবদহ এলাকার কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে জলাবদ্ধতা থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলায় দুই হাজার ২২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে মাধ্যমিক স্তরের ৫২৭ স্কুল ও ৩১০টি মাদ্রাসা, ৯১টি কলেজ ও ১৫টি কলেজিয়েট স্কুল। এছাড়া প্রাথমিক স্তরের এক হাজার ২৮৫টি স্কুল রয়েছে।

চৌগাছা উপজেলার এবিসিডি কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল ইসলাম বলেন, মহামারি করোনায় ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক টিপু সুলতানকে হারিয়েছি আমরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী সবার মনে কষ্ট আছে। দীর্ঘদিন পর কলেজে এসে সবাই টিপু সুলতানের শূন্যতা অনুভব করবে।

কিশোরগঞ্জ : জেলার অনেক প্রতিষ্ঠানের নাজুক পরিস্থিতি। অধিকাংশ মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা, মাথা উঁচু করে পরগাছা দাঁড়িয়ে আছে, মাঠজুড়ে নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ এবং ময়লা-আবর্জনা। এমন হতাশাজনক চিত্র বিরাজ করায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও অসন্তুষ্ট।

শুক্রবার দুপুরে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার মাকসুদা জানান, জেলায় সাড়ে চারশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২১ ও এসএসসি ২০২২ পরীক্ষার্থী ব্যাচের সঙ্গে পালাক্রমে প্রতিদিন অন্য একটি করে ক্লাস হবে। তিনি জানান, বিদ্যালয়গুলোকে ব্যবহার উপযোগী করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরি করতে ইতোমধ্যেই বিদ্যালয় প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা : নগরীর ৮টি প্রতিষ্ঠান ক্লাস শুরুর উপযোগী নয়। এগুলো হল- কাজী আব্দুল বারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টি এন্ড টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জহির উদ্দিন গণবিদ্যাপীঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজিং (৩-তলা) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজি আব্দুল মালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শের-এ-বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া ভয়েজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কয়লাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস পার্শ্ববর্তী স্কুলে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।

গাইবান্ধা : জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবারও অনেক প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল। সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের তাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক এনামুল হক প্রধানের উদ্যোগে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ, ফুলের বাগানসহ বিদ্যালয়ের আনাচে-কানাচে পরিষ্কার করা হচ্ছে। পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী বেলাল হোসেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন।

রাঙামাটি : জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধোয়ামোছার কাজ শেষ করে খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের গড়াকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগল বিন্দু চাকমা ও লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের মারিশ্যাচর মুসলিমব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিনসহ অনেক শিক্ষক জানান, স্কুল খোলার নির্দেশ পাওয়ার পর ওই দিন থেকেই প্রতিটি কক্ষ, চেয়ার, টেবিল, দরজা ও জানালা ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। অনেক শিক্ষকও এসব কাজে অংশ নেন।

বরিশাল : বরিশাল বিভাগে ৩ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানের প্রস্তুতি চলছে। শুধু বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলাতেই ২৯টি স্কুল ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ কাজ করছে।

চলতি বছরের ৭ এপ্রিল পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে অফিস সহকারী মিরন মিয়া আহত হয়েছেন। সে সময় এসএসসির ফরম পূরণের কার্যক্রম করছিলেন মিরন মিয়া।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। কোথাও রড বের হয়ে গেছে। প্রায় স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। তবে বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের সন্ধান পেলেই, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার বা নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। সেক্ষেত্রে আামাদের ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের সংখ্যা খুবই কম।

ময়মনসিংহ : জেলায় ২ হাজার ১৪০টি প্রাথমিক ও ৬৩৫টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দেড় শতাধিক কলেজ রয়েছে। রোববার থেকে এসব প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি মোটামুটি শেষ হয়েছে। বিভিন্ন স্কুলের প্রধান ফটক ও ক্লাস রুমের সামনে রাখা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।

ময়মনসিংহ বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় ফুটের একটি বেঞ্চে বসবে দুজন শিক্ষার্থী। এক রুমে থাকবে সর্বোচ্চ ২০ জন। সেভাবেই সবকিছু প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ নিহার রঞ্জন রায় বলেন, তার কলেজে একাদশ, দ্বাদশ মিলে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিদিন দুই শিফটে ২টি করে ক্লাস নেওয়া হবে।

রংপুর : রংপুর নগরীসহ জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলছে শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। অনেক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম, মাস্ক পরার নিয়ম, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার এসব বিষয়ে দেওয়ালিকা টানানো হয়েছে।

শিক্ষকরা জানান, সব প্রস্তুতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের ব্যাপারে বেশি গুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল থেকে শুরু করে মাঠপর্যন্ত ঝকঝকে করার জোর প্রস্তুতি চলছে।

রংপুর জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, রংপুর জেলায় সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৯২টি, স্কুল-কলেজ রয়েছে ৫৬৯টি, মাদ্রাসা রয়েছে ২৬৭টি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে