রাজশাহীতে স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১; সময়: ৩:৫৮ pm |

শিখা আক্তার : রাজশাহীর অদূরে কাটাখালী পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়। শনিবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শ্রেণী কক্ষগুলোতে প্রলেপ পড়ে গেছে ধুলা-বালির। দুইজন পরীচ্ছন্ন কর্মী সকাল থেকে পরিস্কার করছেন শ্রেণী কক্ষগুলো। সাজানো হচ্ছে বেঞ্চগুলোও।

দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠার খোলার ঘোষনায় খুশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকালে শিক্ষকরা হাজির হন বিদ্যালয়গুলোতে। অনেকেই তদারকি করেন পরিস্কার করে নেন বিদ্যালয়ের আশপাশে জমে যাওয়া ঝোপ-ঝাড়গুলোও। প্রিয় প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণায় দেখতে এবং খোঁজ খবর নিতে স্কুলে চলে আসেন অনেক শিক্ষার্থী।

রাজশাহী চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকিয়া সুলতানা বলেন, একটা আশার বিষয় এই যে দীর্ঘ দিন পর আমরা আবার শ্রেণী কক্ষে ফিরতে পারবো। তবে জানি না কি পরিস্থিতি হবে। কিন্তু ভালো লাগছে অনলাইন থেকে শ্রেণী কক্ষে ফিরে আসবো। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এক সঙ্গে ক্লাসে থাকবো।

রাজশাহী চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসলাম আলী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী যেন ক্লাসে প্রবেশ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য বালতি, মগ ও হ্যান্ড ওয়াস কেনা হয়েছে। এ ছাড়াও রাখা হবে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। কেউ যদি ভুলে মাস্ক ছাড়া চলে আসে তাদের যেন মাস্ক দেয়া যায় সে ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানান এই প্রতিষ্ঠান প্রদান।

দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ কপাট। দেশে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আশা প্রকাশ করছে সরকার।

যদিও এখন পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শতভাগ টিকার আওতায় আনা যায়নি। ফলে তাদের করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মানানোসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে সরকারের প্রস্তুতি কতোটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন জনস্বাস্থ্যবিদ, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা।

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুরে একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া আগামী নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলাসংক্রান্ত বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও অ্যাসাইনমেন্ট প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। বেশিরভাগ শিক্ষকই টিকা নিয়েছেন। এছাড়া ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, করোনার সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকলে স্কুল খোলা যায় কি না, সে বিষয়ে করোনা-সংক্রান্ত কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। তাদের অভিমত মত কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সেপ্টেম্বর বৈঠক করে পরামর্শক কমিটি। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সাপেক্ষে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে, স্কুলগুলোয়ও খোলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসন স্কুল কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে খোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবীর চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, যেকোনো নির্দেশনা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, তার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি থাকায় শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। পরে কয়েক দফা চেষ্টা করেও এই মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আর খোলা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। চলমান এই ছুটি আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। সে অনুযায়ী, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান ছুটি অব্যাহত থাকবে।

  • 30
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে