সদস্যদের তোপের মুখে রাবির প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২১; সময়: ৮:২৭ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি : সাধারণ সভায় সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। শনিবার দুপুরে কমিটির এক সাধারণ সভায় আহবায়ক এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেন সদস্যরা। এ সময় বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হন তারা। তিন ঘণ্টাব্যাপী সভার পুরোটা সময় জুড়ে তারা তোপের মুখে রাখেন আহ্বায়ককে।

আহবায়কের বিরুদ্ধে তারা সুষ্ঠুভাবে দল পরিচালনা না করা, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের অন্যায় অনিয়মকে সমর্থন করা ও বিভিন্ন সময় মিথ্যা কথা বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। এসব কারণে আহ্বায়ক অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে পদত্যাগ করারও আহ্বান জানান সদস্যরা।

শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ডিনস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয় এই সভা। সভা শেষে কমিটির একাধিক সদস্য এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই বিষয়ে কমিটির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আমরা আহবায়ক এর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তিনি গত তিন মাসে কেন কোনো মিটিং ডাকেন নি। আমরা একাধিকবার মিটিং ডাকার জন্য আহবান জানালেও তিনি কেন আমাদের ডাকে সাড়া দেননি, সাবেক উপাচার্য আব্দুস সোবাহান অন্যায়-অনিয়মগুলো করে গেছেন আহ্বায়ক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান কেন সেগুলোর প্রতিবাদ করেননি, আমরা এর জবাব চেয়েছিলাম। প্রথম অবস্থায় তিনি বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত এড়িয়ে যেতে পারেননি।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একজন যুগ্ম আহবায়ক বলেন ‘বর্তমান আহ্বায়ক যেভাবে দল চালাচ্ছেন, সেভাবে দল চলতে পারে না। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর দলের কার্যক্রম একদম ভেঙে পড়েছিল। তিনি সব সময় মিথ্যা কথা বলেন। দল চালাতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ। সে কারণেই তিনি আজ সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছিলেন। দল চালাতে না পারলে তার পদত্যাগ করা উচিত।

তিনি আরো বলেন, নতুন উপ-উপাচার্য দায়িত্ব নেয়ার পর জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার জন্য প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অথচ আহ্বায়ক দলের সদস্যদের সেই বিষয়টি জানান নি। এবং তিনি জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাননি। এসবের জবাব আমরা চেয়েছিলাম।

জানতে চাইলে এই বিষয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, সদস্যরা কিছু বিষয় জানতে চেয়েছিল। সেগুলোর জবাব দিয়েছি।

এদিকে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মূল্যবোধে বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসীর সদস্য পদ স্থগিত করেছে স্টিয়ারিং কমিটি।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আহ্বায়ক পদের প্রার্থী ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুলতান-উল-ইসলাম টিপুর নামে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয় বলে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে। অধ্যাপক রেজাউল করিম বকসী একটি ভুয়া মেইল ব্যবহার করে কুৎসা রটিয়েছে উল্লেখ করে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরীর মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন অধ্যাপক ড. সুলতান উল ইসলাম টিপু।

  • 54
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে