ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২১; সময়: ৬:৪৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফুলবাড়ী : কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত ) মোঃ আব্দুল হাই এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং চাকুরী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার কালিরহাটের জনৈক আব্দুল খালেক এ অভিযোগ আনয়ন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তর তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন, মাহবুবুর রশিদ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মাহমুদুল হাসান ভেটেরিনারি সার্জন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, আজমল আবসার সহকারী প্রোগ্রামার।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জনাব আব্দুল হাই উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে একজন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কর্মকর্তা( উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা) হিসেবে জাহির করে দাপ্তরিক কর্মকান্ড সম্পাদনাসহ উপজেলার বিভিন্ন অফিস-আদালতসহ শিক্ষাঙ্গনে পরিচিতি প্রদান করেন কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধির পরিপন্থী। তিনি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন নামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। নানা ছুতোয় তিনি ঘুষ গ্রহণ করেন তার দপ্তরে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না, নিয়োগ দাপ্তরিক কাজ হয় না। তার এরকম কাজে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা ক্ষুব্ধ। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বোর্ডে মহাপরিচালক মহোদয়ের প্রতিনিধি হিসেবে সদস্য হাওয়ায় চাহিদা মোতাবেক আগাম টাকা না দিলে নিয়োগ বোর্ডের উপস্থিত হন না। এর জন্য তিনি লক্ষাধিক টাকার কম নেন না। এভাবেই তিনি টাকার পাহাড় গড়েছেন। এসব টাকা দিয়ে তিনি রাতারাতি রংপুর শহরে জমি কিনে পাঁচতলা বাড়ি করেছেন। অথচ রংপুরের বদরগঞ্জে এক সময় তার মাটির বাড়ি ছিল। এখন কর্মস্থলে অবস্থান না করে রংপুর থেকে অফিস করছেন। তাকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। নানা ছুতোয় বাইরে অবস্থান করেন।

আরও অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার ফুলবাড়ী জছিমিয়া মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে (সমাজ বিজ্ঞান)সহকারি শিক্ষিকা আশরাফিয়া জাহান, সুজনের কোটি দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার মোছাম্মদ নাসরিন সুলতানা এবং কাশিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক আসমা খাতুনের নিবন্ধন সনদ ভুয়া মর্মে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ ২০১৬ সালের ১০অক্টোবর একপত্র মারফত জানালে তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। এরপরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি তদন্তের নামে টালবাহানা করতে থাকেন। সম্প্রতি এনটিআরসিএ এর এক প্রতিবেদনে ওই তিন শিক্ষকের ভুয়া সনদের বিষয়টি জনসম্মুক্ষে আসে।

এছাড়াও তিনি দাসিয়ারছড়া শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার ভূতপূর্ব সুপারিনটেনডেন্ট (সুপার) আমিনুল ইসলামকে ওই মাদ্রাসায় পুনরায় সুপার হিসেবে পুনর্বহালের চেষ্টা করে তার পক্ষ অবলম্বন করেন অথচ তিনি উপজেলার মধ্য কাশিপুর দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার একজন সহকারী মৌলভী থাকা অবস্থায় দাসিয়ারছড়া শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই ব্যক্তি দুই প্রতিষ্ঠান চাকরি এবং নানা অনিয়ম দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে তিনি পদত্যাগ করে পূর্বের প্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। সম্প্রতি শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসা সরকারী হিসেবে ঘোষণা হলে তিনি স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) কে ম্যানেজ করে পুনরায় ওই প্রতিষ্ঠানের সুপার হিসেবে কর্তৃত্ব ধরে রাখতে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছেন।

অভিযোগকারী আব্দুল খালেকের সাথে ফোনে কথা হলে তিনি জানান, শারীরিক অসুস্থতা ও করোনা কলীন লকডাউনের কারনে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। তবে প্রমাণাদি সংযুক্ত করে একটি লিখিত আবেদন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে রেজিঃ করে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর প্রেরণ করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল হাই বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশীদ জানান, তদন্ত চলমান রয়েছে। বাদী অনুপস্থিত রয়েছেন।

  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে