দেশের সব মানসম্মত স্কুল এমপিওভুক্তি-জাতীয়করণের সুপারিশ

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২১; সময়: ৯:৩৮ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দেশের সব কোয়ালিয়াইড বা মানসম্মত স্কুলগুলোকে এমপিওভুক্তি ও জাতীয়করণের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি।

কমিটি মনে করে, যাদের (স্কুল) পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের কয়েক বছর অপেক্ষায় না রেখে এমপিওভুক্ত করা উচিত। যেসব স্কুল কোয়ালিফাইড তাদের সরকারীকরণ করা এবং দ্বৈত পদ্ধতি থেকে সরে আসতে হবে। এ ছাড়া বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর জন্য আগামী ১০ বছরে কোন কোন সেক্টরে উন্নয়ন করতে হবে তার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির এই মিটিংয়ের কার্যপত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সভায় কমিটির সভাপতি জামালপুর-১ আসনের সাংসদ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অন্য সদস্যরা এতে বক্তব্য দেন।

সভায় কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাজেটের যে অর্থ বেঁচে যায় তা দিয়ে যতদূর সম্ভব কিছু কোয়ালিফাইড স্কুল এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি বলেন, যাদের পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের কয়েক বছর অপেক্ষায় না রেখে এমপিওভুক্ত করা উচিত। যেসব স্কুল কোয়ালিফাইড তাদের সরকারীকরণ করা এবং দ্বৈত পদ্ধতি থেকে সরে আসতে হবে। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আনতে শিগগিরই শিক্ষা সচিবকে কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সব প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) নিয়ে জরুরি বৈঠক করার নির্দেশ দেন তিনি।

কমিটির সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা ১৬১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৫তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশের বরাদ্দ সবচেয়ে কম। শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে স্থায়ী কমিটি কোনো সহায়তা করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এখন কীভাবে তৈরি করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করবে আধুনিক উন্নত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বেসিক দুর্বলতা হলো সক্ষমতার ঘাটতি।

এ ব্যাপারে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) কোনো সুপারিশ আছে কি না, তা তিনি জানতে চান। দেশে যত বেশি শিক্ষিত, ততই বেকারত্বের হার বেশি। চাহিদা যেগুলো আছে, সেগুলোর একটি সিমুলেশন করতে হবে। আগামী ১০ বছর বাংলাদেশ কোথায় নিজেকে দেখতে চায় এবং সেটার জন্য কোন কোন সেক্টরে গ্র্যাজুয়েট দরকার, সেটার সঙ্গে এডুকেশন সিস্টেমটা সিমুলেট করে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ শিক্ষাব্যবস্থায় একটা মডেল সিটিজেন তৈরি করতে যাচ্ছে, অর্থনীতির যে রোডম্যাপ আছে, সেটার সঙ্গে সংগতি রেখে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন থেকে গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে।

কমিটির অপর সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন হচ্ছে না। শুধু মাদ্রাসা নয়, কোনো স্কুল, কলেজ যদি এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না করে তাহলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কিছু শিক্ষক যুগের পর যুগ তাদের পছন্দের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি করছেন। স্কুল ও কলেজ এই দুটো জায়গায় ম্যানেজিং কমিটির এই পদ্ধতি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এমপিওভুক্তির বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যানা প্রতিষ্ঠান শুধু পৌর এলাকায় না করে একটা সুষম বণ্টনের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলগুলোকেও উন্নত করতে হবে। অন্যথায় গ্রামাঞ্চল থেকে দারিদ্র্য দূর হবে না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না।

  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে