রাবির নতুন উপ-উপাচার্য কে এই অধ্যাপক টিপু?

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২১; সময়: ৬:২৬ pm |

খুর্শিদ রাজীব, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের সময়ে দুর্নীতির বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গত ৩ বছর আলোচনার শীর্ষে ছিলেন অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকদের মুক্তি আন্দোলন ও আইনী লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন এই অধ্যাপক। গত ১৩ জুলাই আলোচিত তিনি রাবির উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান।

অধ্যাপক টিপুকে রাবির উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় এক শিক্ষককে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ায় স্বস্তি ফিরেছে বিশ^বিদ্যালয় পাড়ায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, অধ্যাপক টিপু দুর্নীতিমুক্ত বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে রাবির শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নতকরণে কাজ করবেন।

অধ্যাপক টিপুর জীবন বৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগ থেকে ১৯৮১ সালে স্নাতক ও ১৯৮২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ডের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশ সরকারের বৃত্তি নিয়ে এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন। সেই সাথে ২০০২ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে নিজ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ২০০৭ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। অধ্যাপক টিপুর বড় ভাই অধ্যাপক ড. সোলায়মান ছিলেন রাবির দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও প্রখ্যাত লালন গবেষক ছিলেন।

জানা যায়, ২০১০ সালে আওয়ামীপন্থী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষে রাবি শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং ২০১২ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অধ্যাপক টিপু। ২০১৩-১৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাবির নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং ২০১৬-১৯ সাল পর্যন্ত চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ছিলেন। ২০১৫-১৮ সাল পর্যন্ত রাবির পরিবেশ বিজ্ঞান ইনিস্টিউটের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক টিপু। এছাড়াও তিনি রাবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও বঙ্গবন্ধু সমাজ-সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা। ২০১৯ সাল থেকে তিনি নিজ বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর সহকর্মী কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের শুরু থেকেই অধ্যাপক টিপু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসাবে কাজ করছেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা গ্রেফতার হলে তিনি এর প্রতিবাদ ও আইনি লড়াইয়ে নামেন। ২০১৮ সাল থেকে রাবিতে চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষকদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

জানা যায়, রাবিতে যোগদানের আগে ১৯৮৬-৯৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও উপ পরিচালক হিসেবে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন তিনি। সেই সময় তিনি দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া ও রংপুরের খালাসপীর কয়লাখনির আবিস্কারকদের অন্যতম এবং মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি উন্নয়নে সক্রিয় পরামর্শক ভূতত্ত্ববিদ হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়াও বঙ্গোপসারে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মান ভূতাত্ত্বিক জরীপ দলের সাথে কাজ করেছেন।

অধ্যাপক টিপু রাবি এলামনাই এসোসিয়েশন, রাজশাহী কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক সমিতি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানজীবি সমিতি, ভারতের ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট এসোসিয়েশন, নেপাল ও ব্রাজিলের পরিবেশ ও ভূতত্ত্ব সম্পর্কিত সংগঠনের আজীবন ও সাধারণ সদস্য।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জার্নালে তার ৯২টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও ভূতাত্ত্বিক ও পরিবেশ বিষয়ক ৪টি গবেষণামূলক পুস্তক এবং ২টি প্রবন্ধ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

অধ্যাপক টিপুর পরিবার মহান মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নিয়েছিল বলে জানা যায়। মুক্তিযুদ্ধে ৩নং সেক্টরের যোদ্ধা তাঁর শ^শুর জয়নাল আবেদীন একজন ভাষা সৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এছাড়াও অধ্যাপক টিপুর ভগ্নিপতি মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আক্কাছ আলী মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী অঞ্চলে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে থেকে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

  • 210
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে