যোগদানে স্থগিতাদেশ তুলে নেয়ার দাবি ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১; সময়: ৮:৫০ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিদায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের শেষ দিনে দেয়া ‘অবৈধ নিয়োগে’ নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর যোগদানের ‘স্থগিতাদেশ’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে ‘অ্যাডহকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানান নিয়োগপ্রাপ্তরা। গত এক মাস ধরে চলমান নিয়োগপ্রাপ্তদের লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির অংশ এই মানববন্ধন।

মানববন্ধনে নিয়োগপ্রাপ্ত রাবি ছাত্রলীগ নেতা মো. রাসেল বলেন, আমরা এখনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু, আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হলে, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্বাভাবিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতে দেবো না। আমাদের চাকরিতে পদায়নের সুযোগ না দিলে সবকিছু অচল করে দেওয়া হবে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আতিকুর রহমান সুমন বলেন, আমরা জামাত-শিবিরের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি। সাবেক উপাচার্য আমাদেরকে চাকরি দিয়ে গেছেন। অথচ বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য, সেই চাকরিতে আমাদের পদায়নে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। অবিলম্বে এই আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের চলমান এই আন্দোলনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা গত ২২ জুন বলেন, তাদের চাকরিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার বর্তমান প্রশাসনের হাতে নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই নিয়োগ ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে এবং একইসঙ্গে যোগদান প্রক্রিয়া স্থগিতের বিষয়ে আমাদের আদেশ দেয়া হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান তার মেয়াদের শেষ কর্মদিবস ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ১৩৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে যান। মন্ত্রণালয় সেদিনই এই নিয়োগ ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করে। সে পরিপ্রেক্ষিতে ৮ মে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এই ১৩৭ জনের চাকরিতে যোগদান প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরে তদন্ত কমিটি গত ২৩ মে ‘অবৈধ’ নিয়োগে অনিয়মের প্রমাণসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে আবদুস সোবহানের দেশ ত্যাগেও নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে, এর পরিপ্রেক্ষিতে এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে