‘ঢাবিতে হল না খুলে পরীক্ষা মানেই তামাশা’

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২১; সময়: ৩:২৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)-এ হল না খুলে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক, অমানবিক বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হল খোলার পর সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে ছাত্র সংগঠনগুলো।

মঙ্গলবার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হল না খুলে ১ জুলাই থেকে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানোর পরই সমালোচনার শুরু। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সেশনজটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সেশনজট কাটাতে হল খুলে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে আন্দোলন সমাবেশও করে তারা।

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়

ঢাবি আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘হল না খুলে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত অমানবিক এবং অ-অভিবাবকসুলভ। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা কোথায় থাকবে তার নিশ্চয়তা নেই। এতে করোনা ঝুঁকি আরও বাড়বে।

ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন যেভাবে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ভাবছে, তা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর পক্ষে ঢাকায় এসে থাকা সম্ভব নয়। ঢাকায় কিছু শিক্ষার্থীর আত্মীয় থাকলেও করোনাকালে তাদের বাসাতেও থাকা সম্ভব নয়। আমি মনে করি অবশ্যই হল খুলে পরীক্ষা নেওয়া উচিৎ। তার আগে দ্রুত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।’

আগে ভ্যাকসিন পরে হল
ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগুলো দ্রুত নিয়ে নিতে হবে। স্বল্প পরিসরে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল উন্মুক্ত করে দেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিবেচনা করতে হবে।’

ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন বলেন, ‘হল না খুলে পরীক্ষা নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নিয়েছেন তা আমার কাছে তামাশা মনে হচ্ছে। একমাসের জন্য ঢাকায় মেস পাওয়া কত কঠিন তা না জেনে কর্তৃপক্ষ হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। এটা দায়িত্বহীন আচরণ।’

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদ) ঢাবি সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘আবাসিক হল না খুলে পরীক্ষা নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এত শিক্ষার্থী ঢাকায় এসে কোথায় থাকবে তার ঠিক নেই। স্বাস্থ্যবিধি’র কথা যদি বলি, সেক্ষেত্রে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে থেকে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে।

ঢাবি ছাত্রদল আহবায়ক কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বললেন, ‘হল বন্ধ রেখে সশরীরে পরীক্ষা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটি দূরদর্শী সিদ্ধান্তও নয়। আমরা ছাত্র সংগঠনগুলো এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

একমাসের জন্য বাসা/মেস দেবে কে?
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষার্থী সালমান শরীফ বলেন, ‘অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকায় হুট করে খবর পেয়ে বাসাভাড়া বা মেসে সিট পাওয়া অনেকের পক্ষে অসম্ভব। সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে শুধু হল বন্ধ রাখা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নওশীন আঞ্জুম বলেন, ‘যেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের, সেখানে হল না খুলে পরীক্ষা নেওয়া অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে হলে হল খোলা বাধ্যতামূলক।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রব নাসিম বলেন, ‘আমাদের অনেকেই গরিব কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসে। এদের অনেকের মেস ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া এক মাসের জন্য কেউ বাসা ভাড়া দেবে না।’

এদিকে হলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন হল খুলতে হলে ভ্যাকসিন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। বিজয় একাত্তরের হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম সম্পন্ন করে হল খুলব। জুলাইয়ের মধ্যে খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে ফেলতে চাই না।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে