রাবির প্রক্টর ও ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪ জনের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২১; সময়: ১০:১৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের পরিবারের পাঁচজনের পর আরও চারজনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এরা হলেন- সদ্যবিদায়ী প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, তার স্ত্রী মনিরা ইয়াসমিন, রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও এমএস এন্টারপ্রাইজের মালিক ইব্রাহীম হোসেন এবং তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা। আয়েশা সিদ্দিকা সাবেক উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের দেওয়া গণনিয়োগে ছাত্রী হলের আবাসিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

গত রোববার এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল থেকে চিঠিটি ইস্যু করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন ওই শাখার উপপরিচালক ফাতেমা খাতুন। চিঠি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তাদের ব্যাংকের যাবতীয় তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ মে এনবিআরের একই শাখা থেকে একটি চিঠিতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সোবহান, তার স্ত্রী মনোয়ারা সোবহান, ছেলে মুশফিক সোবহান, মেয়ে সানজানা সোবহান ও জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের মেয়ে সানজানা সোবহান রাবির ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এবং জামাতা শাহেদ পারভেজ ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) প্রভাষক।

রোববার ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী মনিরা ইয়াসমিন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইব্রাহীম মুন ও তার স্ত্রী আয়েশার একক বা যৌথ নামে অথবা তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে/প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত/রক্ষিত যে কোনো মেয়াদি আমানত হিসাব (এফডিআর, এসডিটি হিসাবসহ যে কোনো ধরনের বা নামের হিসাব), যে কোনো ধরনের বা মেয়াদের সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, লকার বা ভল্ট, সঞ্চয়পত্র বা অন্য যে কোনো ধরনের সেভিংস ইন্সট্রুমেন্ট, ইনভেস্টমেন্ট স্কিম বা ডিপোজিট স্কিম বা অন্য যে কোনো ধরনের বা নামের হিসাব পরিচালিত বা রক্ষিত হয়ে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পাঠাতে হবে।

আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ১১৩(এ) ধারা অনুযায়ী এ তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এনবিআরের চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। তবে সময়ের আগেও যদি কোনো হিসাব থাকে সেটিও সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে ২০১৭ সালের আগস্টে প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান। গত ২৭ মে অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে সরিয়ে একজন সহকারী প্রক্টরকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব দিয়ে অফিস আদেশ জারি করেছে রেজিস্ট্রার দপ্তর।

এ বিষয়ে সদ্যসাবেক প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমি চিঠির বিষয়টি জানি না। কেন তলব করা হযেছে, তাও জানি না। তবে কখনোই কোনো অনিয়মে যুক্ত ছিলাম না। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এনবিআর আমার সম্পর্কে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাবে না। কেউ হয়তো ষড়যন্ত্র করে আমার সম্মান নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহীম হোসেন মুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

  • 230
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে