রাবিতে পুকুরের মাটি লুট, প্রশাসনের অপসারণ দাবি

প্রকাশিত: মে ২, ২০২১; সময়: ৫:২৩ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানসহ প্রশাসনিক কর্তাদের অপসারণ দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকা ও সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হওয়ায় এই দাবি তোলেন শিক্ষকরা। রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুকুর খননের জন্য ইজারা দেয়া হয়। ইজারার শর্তমতে পুকুর খননের মাটি পারে রাখার কথা থাকলেও শর্ত ভেঙ্গে মাটি লুঠ করার ঘটনা ঘটেছে। এতে গণমাধ্যমে লাগাতার সংবাদ প্রকাশিত হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি প্রশাসন। এরই মধ্যে গত ২৫ এপ্রিল মধ্য রাতে পুকুর খননের মাটি পরিবহণে নিয়োজিত ট্রাক্টর উল্টে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। পুকুর খননের মাটি লুঠে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টা রয়েছে বলেও অভিযোগ শিক্ষকদের।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, বর্তমান প্রশাসনের মেয়াদের শেষপ্রান্তে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের আওতায় নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ৫০ বিঘা জমি লিজ দিয়ে তিনটি পুকুর খনন প্রকল্পের কাজ চলছে। শর্ত ভঙ্গ করে গত ২৭ মার্চ ২০২১ তারিখ থেকে খননরত পুকুরের মাটি ট্রাকে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন ইট ভাটায়, ব্যক্তিগত পুকুর ও গোরস্থান ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে প্রতি ট্রাক মাটি ৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটিকে নিয়মানুযায়ী নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই নজিরবিহীনভাবে পুকুর খননের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও স্বার্থপরিপন্থী এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার শামিল।

শিক্ষকরা বলেছেন, আমরা আশংকা করছি যে, চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ইজারাদাররা পুকুর কাটার যে মাটি বিক্রি করছে তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি যোগসাজস রয়েছে। আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ চুরি/লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এসব পদক্ষেপ মাটি চুরি/লুট হওয়া ঠেকাতে পারেনি বরং মাটি লুটপাটের পথ আরও বেশি সুগম করেছে। এক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী কাজ হলে ও মাটি লুটের প্রথম দিনই প্রশাসন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষা করা যেতো বলে আমরা মনে করি।

দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষকরা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা ও কৃষি প্রকল্পের উপদেষ্টা কমিটি এই দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। অপর উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রক্টর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানও এই বিষয়ে তাদের সঠিক দায়িত্ব পালন করেন নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় ও ইজারা বাতিল না করায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ-স্বার্থ রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের অপসারণের জোর দাবি করছি। একই সাথে বাংলাদেশ সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয় ও জনগণের সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে