রাবি উপাচার্যের জামাতার চাকরি স্থায়ী করলো প্রশাসন

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২১; সময়: ৯:২৬ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্যের জামাতা ও ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এন্ড অ্যাডমিনস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক এটিএম শাহেদ পারভেজসহ ৫ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়েছে। শনিবার উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ^বিদ্যালয়ের ৫০৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের এই চাকরী স্থায়ীকরণ পাশ হয়। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আইবিএ’র বোর্ড অব গভর্নরসের সুপারিশক্রমে ইনস্টিটিউটের ৫ শিক্ষকের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। তারা ২ বছরের প্রভিশন শেষ করে চাকরি স্থায়ীকরণের সুযোগ পেলেন। বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রভিশন শেষে সবার চাকরিই স্থায়ী করা হয়।

বিশ^বিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজ ২০১৯ সালে আইবিএ’তে প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। তাঁর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ ৩ দশমিক ৫ এর নিচে। তিনি মার্কেটিং বিভাগ থেকে পাস করেছেন। তাঁর ব্যাচে যিনি প্রথম হয়েছেন তাঁর সিজিপিএ ৩ দশমিক ৮৯। এই ব্যাচে ৩ দশমিক ৫ বা এর ওপরে সিজিপিএ পেয়েছেন ৬৬ জন। ৬৭ তম হয়েও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় দেশব্যাপী তা সমালোচনার জন্ম দেয়।

এছাড়াও নিয়োগ শর্ত শিথিল করে মেয়ে ও জামাতাকে নিয়োগ দেয়ায় উপাচার্য এম আব্দুস সোবহানের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ^বিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ আচার্য ও রাষ্ট্রপতি দফতর, প্রধানমন্ত্রীর দফতর, শিক্ষামন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে একটি অভিযোগ পত্র পাঠায়। এর প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত অনুসন্ধান কমিটি অনিয়মের সত্যতা পায় বলে জানা যায়।

পরে গত বছর ডিসেম্বরে শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে জবাব চেয়ে একাধিক চিঠি পাঠায়। একই সঙ্গে বিশ^বিদ্যালয়ে সব ধরণের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এইসব চিঠির একটিতে তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে উপাচার্যের মেয়ে ও জামাতার নিয়োগ কেন বাতিল করা হবে না জানতে চাওয়া হয়।

  • 1.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে