রাবিতে ফলাফলে বিপর্যয়, সভাপতির অনিয়ম তদন্তের দাবি

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২০; সময়: ১২:৪২ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাবি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগের সভাপতির ড. সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরীর স্বেচ্ছাচারিতা, প্রতিশোধ পরাণয়তা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্বে অবহেলায় এমন ফল বিপর্যয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এক সংবাদ সম্মেলনে এইসব অভিযোগ করে পুনর্মূল্যায়ন ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল হাসান বলেন, বিভাগের সম্মান পরীক্ষায় আমাদের ২৯ জনের মধ্যে ১১ জন ৩.৫০ এর বেশি সিজিপিএ অর্জন করি। কিন্তু বর্তমান সভাপতি ড. সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন চৌধুরী সভাপতি হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্র্থীদের জীবনে দুঃসময় নেমে আসে। তার স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, পক্ষপাতিত্ব ও ক্লাস-পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘন ও অনৈতিক কার্যকলাপের ফলে আমাদের মাস্টার্স পরীক্ষার ফলাফলে নজিরবিহীন বিপর্যয় ঘটেছে। গত ১১ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় শুধুমাত্র সভাপতি মহোদয়ের ঘনিষ্ঠ ৩ জন শিক্ষার্থীই ৩.৫০ সিজিপিএ বা তার বেশি অর্জন করতে সমর্থ হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মাস্টার্সের ৮টি কোর্সের মধ্যে ৫টি কোর্সেই পরীক্ষক ছিলেন ইতিহাস বিভাগ থেকে প্রেষণে আসা সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এগুলোর মধ্যে ২টি কোর্সের একটিতে মাত্র ৩টি ক্লাস এবং আরেকটিতে একটিও ক্লাস নেননি। ৪টি কোর্সের ২০ নম্বরের ইনকোর্স নেয়ার নিয়ম থাকলেও পরীক্ষা ছাড়াই এতে নম্বর বসানো হয়েছে। বিভাগের নিয়মিত ও খণ্ডকালীন শিক্ষক থাকতেও পরীক্ষা কমিটিতে অন্য বিভাগের দুজন শিক্ষককে সদস্য করেছেন। মাস্টার্সের থিসিসেও তিনি পক্ষপাতিত্ব করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলেও তিনি উপাচার্যের ঘণিষ্ঠ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ আমলে নেয়া হচ্ছে না। এদিকে অভিযোগ জানানোর পর থেকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হেনেস্থা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়াও ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন শিক্ষার্থীদের নামে উষ্কানীমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

  • 39
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে