বাগমারায় কোয়ালীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২০; সময়: ৩:৪৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের কোয়ালীপাড়া ১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে বিধি লংঘন ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নতুন ভাবে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যে নীতিমালা রয়েছে তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে সভাপতির যোগ্য ব্যক্তি কমপক্ষে স্নাতক পাশ এবং যার সন্তান ঐ বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে এমন কোন ব্যক্তি সভাপতি হতে পারবেন। তাছাড়া কোন ব্যক্তি একাধিকবার একই কমিটিতে থাকতে পারবেন না।

কোয়ালীপাড়া ১ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে এ গুলোর কিছুই মানা হয় নি। কোয়ালীপাড়া, পারিলা, চন্ডিপুর গ্রাম এলাকায় বেশ কয়েক জন ছাত্র/ ছাত্রীদেও অভিভাবক গণ অভিযোগ করে বলেন, কখন কিভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে আমরা তার কিছুই জানিনা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আমাদের জানানো তো দুরের কথা নোটিশ বোর্ডে একটা নোটিশ পর্যন্ত করেন নি। শুধুমাত্র যারা কমিটিতে সদস্য আছেন তারা ছাড়া অন্য কেউ কিছুই জানেন না। আমাদের জানা মতে বর্তমান কমিটি গঠনে যাকে সভাপতি নির্বাচন করা হয়েছে তার কোন ছেলে বা মেয়ে আমাদের বিদ্যালয়ে লেখা-পড়া করে না। এমনকি তিনি যে বিদ্যালয়ে চাকুরী করেন সেখানেও তার আপন ছেলেকে ভর্তি করেন নি।

প্রধান শিক্ষিকা তার নিজ ইউনিয়ন গোবিন্দপাড়ার লোক বা অতি আপনজন জেনে স্বাধীন ভাবে তার কাছে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের স্বার্থে এমন ভাবে গোপনে নিজের লোকজনকে কমিটিতে নাম তালিকা ভূক্ত করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদেরও মধ্যে কেউ কেউ ৭/৮ বছর যাবৎ কমিটিতে আছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীও অভিভাবকেরা।

বিগত কমিটির মাধ্যমে ঐ বিদ্যালয়ে একজন পিয়ন নিয়োগের ক্ষেত্রে নয়ছয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত পিয়নের নিকট আত্নীয়রা। যাদেরকে কমিটিতে রাখা হয়েছে তাদের নাম ও তিনি বলতে চান নি।

এ দিকে গোপনে কমিটি গঠন করা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এছাড়া এই পকেট কমিটি দ্রুত বাতিল করে নিয়ম মেনে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাছাড়া যে ব্যক্তির নিজের দায়ীত্ব বা কর্তব্যের প্রতি আস্থাশীল নয় যেখানে চাকুরী করেন সেখানে যদি তার নিজের ছেলে ভর্তি না করায় সেখানে অন্যরা কি করবে? নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতি যার ভক্তি শ্রদ্ধা বলে কিছু নাই সে কিভাবে আর একটি প্রতিষ্ঠানের দেখভাল করবেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা খানম বলেন, কিছু অসুবিধার কারণে আমি বাড়িতে বসে সকল কাগজপত্র ঠিক ঠাক করেছি। নিয়ম মেনে কমিটি গঠন করা হয়েছে জানান তিনি।

এ নিয়ে বাগমারা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মৌখিক ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে