রাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া ছাত্রের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০১৯; সময়: ৪:৪৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় সি (বিজ্ঞান) ইউনিটে অ-বিজ্ঞান শাখায় মানবিক থেকে প্রথম হওয়া এক ভর্তিচ্ছুকে জালিয়াতির সন্দেহে ভর্তি কার্যক্রম থেকে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. হাসিবুর রহমান। তিনি তার সংশ্লিষ্ট এ (মানবিক, রোল-৫৪২৩৩) ইউনিটে মাত্র ২০ নম্বর পেয়েছেন। অথচ সি ইউনিটের (রোল-৮০৩১৮) অ-বিজ্ঞান শাখায় মানবিক থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে হাসিব এমসিকিউয়ে ৬০ এর মধ্যে ৫৪ ও লিখিততে ৪০ এর মধ্যে ২৬ নম্বরসহ মোট পেয়েছেন ৮০।

ফলাফলের এ চরম অসঙ্গতি ভর্তিপরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের নজরে আসায় তাকে সোমবার (২৫ নভেম্বর) জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেদিন ডিন অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরের দিন মঙ্গলবার সকালে হাসিবকে কর্তৃপক্ষ ‘ঠান্ডা মাথায়’ চিন্তা করে আসতে বলেন। তবে হাসিব সেদিন আসেননি।

সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার চিফ কো-অর্ডিনেটর ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. একরামুল হামিদ বলেন, “হাসিব এ ইউনিটে মাত্র ২০ নম্বর পেয়েছে। কিন্তু সি ইউনিটে সে সর্বোচ্চ নম্বর ৮০ পেয়েছে। এ তথ্যটি জানার পর সন্দেহ থেকে তাকে সেদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় সবকিছু চিন্তা করে মঙ্গলবার সকালে এসে আসল তথ্য দিতে বলা হয়। কিন্তু তারপরে দুদিন হয়ে গেলেও সে আসেনি। তার ফোন নম্বরও বন্ধ।”

“সেদিন তার হাতের লেখা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার হাতের লেখাও সন্দেহজনক মনে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাতে সে খুব বেশি উত্তর দিতে পারেনি। একটু গরমিল মনে হয়েছে। পরে তার এ ও সি ইউনিটের পরীক্ষার দুটি খাতাও দেখা হয়েছে। সেখানেও তার হাতের লেখায় গড়মিল দেখা গেছে। সবমিলিয়ে আমরা ডিনরা বসে জালিয়াতির সন্দেহে তার ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেছি।”

তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে একরামুল হামিদ বলেন, “ভর্তি কার্যক্রম যেহেতু ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময়ে সে (হাসিব) আসলে তাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আমরা ডিনরা একটা তদন্ত কমিটি হয়তো পরে করব।”

বিশ্ববিদ্যালয়টির ফল প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের নজরে আসলে তার সঙ্গে বিভিন্ন কৌশলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রথম দিন হাসিব জানান, গ্রামের বাড়িতে থাকায় তার পক্ষে দেখা করা সম্ভব নয়। তবে কয়েক দিন পর রাজশাহীতে এসে তিনি যোগাযোগ করবেন। এরপর থেকে তার মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা দিলেও কোনো উত্তর দেননি হাসিব।

পরে সি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার চিফ কো-অর্ডিনেটর ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. একরামুল হামিদকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরে সোমবার বিকেলে হাসিব ভর্তি হতে আসলে তাকে ডিন অফিসে দেড় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

হাসিবের একাধিক বন্ধুর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পর সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। তিনি ভর্তি আবেদন করেছিলেন। এমনকি সিলেট হয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য বাসের টিকেটও সংগ্রহ করেছিলেন। রাজশাহীতে পরীক্ষা দেওয়ার পর হাসিব আর কোথাও পরীক্ষা দিতে যাননি। তারা জানায়, তার পক্ষে এ ধরনের ফলাফল করা অসম্ভব। কত টাকার বিনিময়ে সে (হাসিব) সি ইউনিটে চান্স পেয়েছে, সে প্রশ্নের জবাবে হাসিব চুপ থেকেছে বলে তার কাছের কয়েকজন বন্ধু দাবি করেছে।

ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে যুক্ত একাধিক শিক্ষক এ বিষয়ে জানান, বর্তমান পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়া কঠিন। এমনকি পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করাও সম্ভব নয়। এটা হতে পারে ওই ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার পূর্বেই প্রশ্ন পেয়েছিল কিংবা পরীক্ষার ওয়েমার শিট ও লিখিত খাতা ফাঁকা রেখে এসেছিল এবং পরবর্তী সময়ে হয়তো অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় এটা সম্পন্ন করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • বাস চাপায় শেষ পুরো পরিবার
  • ফেসবুক এজেন্টের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা
  • স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হলেন ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা
  • আইপিএলে সুযোগ না পেয়ে ক্রিকেটারের আত্মহত্যা
  • দেশে একদিনে আরও ৪৪ মৃত্যু, আক্রান্ত ২৬১৭
  • অন্যের নামে কেনা টিকিটে ট্রেনে উঠলে সাজা
  • প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন উচ্চধাপে নির্ধারিত
  • সিনহাসহ ১১ জনের বিচার শুরু
  • রাজশাহী অঞ্চলে একদিনে শনাক্ত ২৭৬, মৃত্যু বেড়ে ২০৪
  • ১২শ কোটি টাকার চেকসহ যুবলীগ নেতা আটক
  • সুজানগরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ৩
  • কুড়িগ্রামে বাসের ধাক্কায় নিহত ৪
  • বিশ্বব্যাপী ১৬৫টি করোনার টিকার উন্নয়ন চলছে
  • প্রথমবারের মতো লকডাউনে ভুটান
  • কুষ্টিয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের ১৬ প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ
  • উপরে